মুখ ও মুখোশ এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রযাত্রা

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১০:৩৯ পিএম

প্রথম বাঙালি হিসেবে হীরালাল সেন চলচ্চিত্র প্রদর্শক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ১৮৯৮ সালে। লন্ডন থেকে একটি যন্ত্র সংগ্রহ করেন এবং অনেক সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে তিনি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রম, অদম্য মনোবল গড়ে তোলে ‘দি রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি। ১৯০১ সালের গোড়ার দিকে তিনি তার ‘আলীবাবা’ নাটকের মর্জিনা ও আব্দুল্লাহ চরিত্র নৃত্য-চলচ্চিত্র আকারে ধারণ করেন ও প্রদর্শন করেন। এভাবে সারা ভারতবর্ষ এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হয়। ১৯০৪ সালের দিকে তিনি নির্মাণ করেন ‘আলীবাবা ও ৪০ চোর’। আবার তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেন। এই কীর্তিমান বাঙালির জন্মস্থান বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে। কালিশ মুখার্জি ‘বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাস’ গ্রন্থে হীরালাল সেনকে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জনক হিসেবে আখ্যা দেন।

অন্যদিকে, ১৯৫৫ সালে ‘পথের পাঁচালী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেন যিনি, তার নাম সত্যজিৎ রায়। তার হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র পেল নতুন ধারা, নতুন মাত্রা, পেল নতুন জীবন। পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গে ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, রাজেন তরফদার, তপন সিংহ, অপর্ণা সেন, গৌতম ঘোষ প্রমুখ পরিচালকরা নিজেদের মেধা-মনন দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলেন।

এই সময়েই ঢাকার বাঙালিরাও স্বপ্ন দেখতে শুরু করে যে তারাও চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন। কিন্তু জাতীয়ভাবে উদ্যোগ না থাকায় এরা পিছিয়ে পড়েন বারবার। কিন্তু ১৮৯৮ সালেই ঢাকাতে প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। আর ঢাকায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মিত হয় ১৯১৯ সালে। ঢাকায় মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রথম সফরের ওপর ভিত্তি করে ১৯২৮ সালের আগে বা পরে নজির আহমেদ নির্মাণ করেন ‘সুকুমারী’ নামের মাত্র চার রিলের একটি চলচ্চিত্র। একাধারে তিনি ছিলেন পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা। ১৯৪৮ সালের দিকে ঢাকাসহ পুরো পাকিস্তানে এটা প্রদর্শিত হয়।

১৯৫৩ সালের দিকে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন আব্দুল জব্বার খান। তিনি একে একটি আন্দোলন হিসেবে নেন। সেই সময় গুলিস্তান সিনেমা হলের মালিক বিরোধিতা করেন এবং তিনি প্রতিষ্ঠা করতে চান যে পূর্ব পাকিস্তানের আবহাওয়া চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্তরায়। কিন্তু আব্দুল জব্বার খান এই মিথ্যাচারের জবাব দিয়ে সত্যটি প্রতিষ্ঠা করেন। আব্দুল জব্বার খানের একক প্রচেষ্টায় ১৯৫৪ সালে গঠিত হয় ইকবাল ফিল্মস এবং পরে কো-অপারেটিভ ফিল্ম মেকার্স লিমিটেড। ইকবাল ফিল্মসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মোহাম্মদ মোদাব্বের, মহিউদ্দিন, শহীদুল আলম, আবদুল জব্বার খান, কাজী নুরুজ্জামান প্রমুখ। কো-অপারেটিভ ফিল্ম মেকার্স লিমিটেডের সঙ্গে ছিলেন ড. আবদুস সাদেক, দলিল আহমদ, আজিজুল হক, দুদু মিয়া, কবি জসীম উদ্দীন, কাজী খালেক, সারওয়ার হোসেন প্রমুখ। উল্লেখ্য, দলিল আহমেদের পুত্র বুলবুল আহমেদ এবং দুদু মিয়ার পুত্র আলমগীর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।

বাংলাদেশে চলচ্চিত্র শিল্প প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের রূপকার আব্দুল জব্বার খান। কথিত আছে মরিচা ধরা একটি আইসো ক্যামেরা এবং একটি অতি সাধারণ ফিলিপস টেপ রেকর্ডারকে সম্বল করে ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়। আব্দুল জব্বার খানের লেখা ‘ডাকাত’ গল্প থেকে ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য করা হয় এবং ১৯৫৬ সালে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয়। অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ছবিটি মাত্র চারটি ছবিঘরে প্রদর্শনের অনুমতি মেলে। বাংলাদেশের চিন্তা, ক্ষুদ্র প্রযুক্তির সাহায্য আর নানাবিধ প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে আলোর মুখ দেখা এই চলচ্চিত্র আজ ইতিহাস।

১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট আবদুল জব্বার খান পরিচালিত বাংলাদেশের প্রথম সবাক বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ মুক্তি পেয়েছিল। পরিচালক নিজেই নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। নায়িকা চরিত্রে ছিলেন চট্টগ্রামের পূর্ণিমা সেন। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন ইনাম আহমেদ, নাজমা, জহরত আরা, আলী মনসুর, রফিক, নুরুল আনাম খান, সাইফুদ্দীন, বিলকিস বারী প্রমুখ। চিত্রগ্রাহক কিউ. এম জামান, সুরকার সমর দাস, কণ্ঠশিল্পী আবদুল আলীম ও মাহবুবা হাসানাত এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখানে ডাকাতের ভূমিকায় ইনাম আহমেদের অভিনয় অনেকের মনে দাগ কাটে। বলা হয় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনক আব্দুল জব্বার খান এই ছবির মাধ্যমে তরুণদের ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করতে সক্ষম হন। এই ছবিটি নানা শহরে প্রদর্শিত হয় এবং ব্যাপক সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়। দর্শকনন্দিত এই ছবির কারণে অনেকেই চলচ্চিত্রে আসার চিন্তাভাবনা শুরু করেন।

‘মুখ ও মুখোশ’ মুক্তির পরের বছর ১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাদেশিক আইন পরিষদে ‘পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা বিল’ উত্থাপন করেন, বিলটি বিনা বাধায় তৎকালীন আইন পরিষদে পাস হয়। ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (এফডিসি) এদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্মেষ ঘটার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। ১৯৫৯ সালে ‘আকাশ মাটি দেশ’ ছিল পূর্ব-পাকিস্তানে এফডিসির সহযোগিতায় নির্মিত ও মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি। ঐ একই বছর আরও তিনটি বাংলা ছবি মুক্তি লাভ করে। এফডিসি প্রতিষ্ঠার পরে চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক যোগ্য ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। ১৯৫৯ সালে ফতেহ লোহানীর ‘আকাশ আর মাটি’, মহিউদ্দিনের ‘মাটির পাহাড়’, এহতেশামের ‘এদেশ তোমার আমার’ এই তিনটি বাংলা চলচ্চিত্র ছাড়াও এ.জে. কারদারের ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ নামে একটি উর্দু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। তন্মধ্যে খান আতাউর রহমান অভিনীত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দশকে নির্মিত ৫টি চলচ্চিত্রের প্রতিটিই নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিল্পমানে উত্তীর্ণ বলেই চলচ্চিত্রবোদ্ধারা মনে করেন। অর্থাৎ আমাদের চলচ্চিত্রের অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল শুদ্ধতার অঙ্গীকার নিয়েই। এরমধ্যে ‘সুতরাং’, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘কখনো আসেনি’, ‘সূর্যস্নান’, ইত্যাদি চলচ্চিত্র বিশেষভাবে আলোচিত। বাংলা ছবির পাশাপাশি উর্দু ছবির নির্মাণও চলতে থাকে সে সময়। এহতেশাম ‘চান্দা’ ছবি মুক্তি দিয়ে ব্যবসায়িক সাফল্য পেলে উর্দু ছবির নির্মাণ বেড়ে যায়। ১৯৬৫ সালে জহির রায়হান ‘বাহানা’ নির্মাণ করেন। অবশ্য, কিছুদিন পরই উর্দু ছবির নির্মাণ কমতে থাকে। ১৯৬৫ সালে সালাহউদ্দিন ‘রূপবান’ নামে ছবি নির্মাণ করে আলোড়ন তুলেছিলেন। এর ফলে পরে ‘রূপবান’ নাম ব্যবহার করে অনেক ছবি বাংলাদেশে নির্মিত হয়েছে। যেমন ‘রূপবান কন্যা’, ‘রহিম বাদশাহ ও রূপবান কন্যা’, ‘বনবাসে রূপবান’ ইত্যাদি। এমনকি রূপবান নাম নিয়ে কলকাতাতেও ছবি নির্মাণ হয়েছিল। এই ধারার সাফল্যের পর অনেক পরিচালক লোককাহিনী ভিত্তিক ছবি নির্মাণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তার ধারাবাহিকতায় জহির রায়হান তৈরি করেন ‘বেহুলা’। এই ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রাজ্জাক। আর প্রথম ছবিতেই বাংলার সবার মন জয় করে নেন পরবর্তী সময়ে নায়করাজ হিসেবে খ্যাত রাজ্জাক।

বাংলা চলচ্চিত্রের যাত্রারম্ভের সময় থেকে ধীরে ধীরে এই জগতে জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন হাসান ইমাম, আমিন, খলিল, আজিম, খান আতা, আনোয়ার হোসেন, রাজ্জাক, ওয়াসীম, জাফর ইকবাল, জসিম, উজ্জ্বল, আলমগীর, সোহেল রানা, ইলিয়াস কাঞ্চন, বুলবুল আহমেদ, ফারুক, মাহমুদ কলির মতো জনপ্রিয় নায়কেরা। একই সময়ে সুজাতা, রোজী, শবনম, শাবানা, কবরী, অলিভিয়া, ববিতা, রোজিনা, সুচরিতা, অঞ্জনা, প্রমুখ অভিনেত্রীরা প্রতিষ্ঠা পান এবং তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর অনেক নায়ক-নায়িকা তাদের চেষ্টা দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অনেক নামিদামি পরিচালক, প্রযোজক, সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার, শিল্পী, পরিবেশক, প্রদর্শকসহ অনেকেই এই শিল্পের উন্নয়নে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। হয়েছেন বিখ্যাত এবং জনপ্রিয়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারা এই শিল্পে যেমন সময় দিয়েছেন তেমনি এখান থেকে অর্জন করেছেন যশ ও খ্যতি। পেয়েছেন পদক, বিনোদন দিয়েছেন সাধারণ দর্শকদের। সামাজিক, সোশ্যাল অ্যাকশন, ফোক-ফ্যান্টাসি ছবি, মার্শাল আর্টসহ অনেক বিষয়ে ছবি নির্মাণ করেছেন।

৩ আগস্ট, ২০২১ ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্র মুক্তির তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলো। যেখান থেকে আমাদের এই চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয়েছিল, যাদের মেধায় আমরা মাথা উঁচু করে হাঁটতে চেয়েছিলাম সেই শিল্প আজ মৃতপ্রায়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে সব কলাকুশলীর অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যখন পথ চলা শুরু করে তখন তেমন কোনো আর্থিক সাহায্য, কারিগরি সাহায্য এবং এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত লোক ছিল না, এছাড়াও ছিল তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য। সবকিছু পাশ কাটিয়ে শুধু ভালোবাসাকে পুঁজি করে এই শিল্প তিল তিল করে গড়ে উঠেছিল। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে প্রথম দশকটিতে চলচ্চিত্র শিল্প এগিয়ে যাওয়ার ধারায় থাকলেও পরবর্তী সময়ে এই শিল্প ক্রমাগত পিছিয়ে পড়তে থাকে। একটা সময়ে অশ্লীলতা আমাদের এই চলচ্চিত্র শিল্পে কালো একটা ছায়া লেপন করে, ফলে অনেকেই দূরে সরে যান। অনেক বড় এবং নাম করা প্রোডাকশন হাউজ বন্ধ হয়ে যায়। একটা সময় সিনেমা হলের মান এতটা খারাপ হয়ে পড়ে যে, প্রেক্ষাগৃহে বসে সিনেমা দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। চলচ্চিত্রের মান ও হলের মান এক সঙ্গে হ্রাস পেতে থাকে। আবার সারা দেশে সিনেমা হলগুলোতে সিরিজ বোমা হামলা হয়। চলচ্চিত্র শিল্পের প্রসারে বাধা হয়ে ওঠে দেশের মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠী। একটা পর্যায়ে হল বন্ধ করে মার্কেট গড়ে তোলা হয়। ফলে আয়ের রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। আর প্রযোজকের কপালে চিন্তার রেখা দেখা যায়। চলচ্চিত্র নির্মাণে লগ্নি অর্থ ফিরে না আসায় অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নেয়।

একুশ শতকের শুরুতে তারেক মাসুদ নির্মিত মাটির ময়না চলচ্চিত্রটিকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নবজাগরণের একটা সূচনা বলা যেতে পারে। আরও পরে আমরা অনেক তরুণ ও মেধাবী নির্মাতাকে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে দেখছি। এই ধারাতেই সবশেষ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রটি বিশ^খ্যাত কান চলচ্চিত্র উৎসবে আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ও প্রদর্শিত হয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে নতুন সম্ভাবনার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আশা থাকবে এই প্রজন্মের তরুণদের হাত ধরেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্রামোদীদের মন জয় করে নেবে।

লেখক ব্যাংকার ও গবেষক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত