রিমান্ডে আসামির মৃত্যু পুলিশের দাবি আত্মহত্যা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২১, ০২:৪৮ এএম

রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে থাকা এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। মো. লিটন (৪৫) নামের ওই আসামি গত সোমবার গভীর রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পুলিশের। ওইদিন রাতেই তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

থানায় পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে লিটন কীভাবে আত্মহত্যা করলেন তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই মৃত্যুর পেছনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নিহত লিটনের বাড়ি বগুড়ার কাহালু থানা এলাকায়। তার মরদেহ প্রথমে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে গতকাল মঙ্গলবার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো স্বজন লিটনের মরদেহ নিতে আসেননি বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, র‌্যাব সদস্যরা লিটনকে মাদকসহ আটক করে গত ৩১ জুলাই উত্তরা পূর্ব থানায় হস্তান্তর করে। এ সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে ছিলেন তিনি। সোমবার ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন। সিসিটিভি ফুটেজের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ বলছে, সোমবার রাত ২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে যে কোনো সময় গায়ে দেওয়ার কম্বল ছিঁড়ে ভেন্টিলেটরের গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন লিটন। এ সময় থানায় ডিউটি অফিসার থাকলেও তিনি তাৎক্ষণিক কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। পরে যখন বুঝতে পারেন তখন লিটনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

উত্তরা পূর্ব থানা থেকে পাওয়া তথ্যমতে, লিটন মাদকের যে মামলায় রিমান্ডে ছিলেন সেই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিনুল। এছাড়াও লিটনের বিরুদ্ধে আগের তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সে (লিটন) নিজেই আত্মহত্যা করেছে। পরে ডিউটি অফিসার বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে এডিসি তাপস কুমার দাসকে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত