বিশ্বব্যাংকের বিবৃতি

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ করা হয়নি

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২১, ০২:৫১ এএম

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সুপারিশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, তারা শুধু আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মানবিক কার্যক্রমে বাংলাদেশকে সহায়তায় কাজ করছে। যেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের চাহিদা মোকাবিলায় সহায়তা করা যায়। গতকাল মঙ্গলবার রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান স্পষ্ট করতে ছয়টি বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত বা রেখে দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। বিশ্বব্যাংক যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে সেটা বাংলাদেশের জন্য নয়, ১৬টি দেশের জন্য প্রযোজ্য। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে।’

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে গতকালের বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাহিদা মোকাবিলায় তাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সহায়তা করছে। অভিবাসীদের আশ্রয়দাতা দেশের ওপর এর প্রভাব কমাতে বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।’

প্রস্তাবিত শরণার্থী নীতি পর্যালোচনা প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক বলছে, শরণার্থী নীতি পর্যালোচনা কাঠামো অনুসরণ করে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) পর্যালোচনাটি করেছে। ইউএনএইচসিআরের বিদ্যমান নীতি, অনুশীলন ও কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে তথ্য সংগ্রহ করেছে বিশ্বব্যাংক।

শরণার্থী নীতিমালার পর্যালোচনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর সড়কসহ মৌলিক অবকাঠামো, সৌরবাতি এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশকে ৫৯০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কক্সবাজারের উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকার কী সেটা বুঝতে সহায়তা করছে।

বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক বলেছে, বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে ৫৯০ মিলিয়ন ডলারের পুরোটাই অনুদান, ঋণ নয়। সংস্থাটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই মুহূর্তে শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে এমন ১৪টি দেশের প্রতিটির জন্য এ পর্যালোচনা করা হয়েছে। কোনো একক দেশের জন্য নয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মেহরিন এ মাহবুব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক তাদের অবস্থান তুলে ধরতে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি সমর্থন করে। যে ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে কথা হচ্ছে, এটি কোনো একটি দেশের জন্য তৈরি হচ্ছে না, বিষয়টা বৈশ্বিক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত