রাজউকের সাবেক ২ চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে দুদকের দায়মুক্তি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ০২:৩৮ এএম

আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব কর্মকর্তার মধ্যে সংস্থাটির সাবেক দুই চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান এবং সাইদ নুর আলমও রয়েছেন। রাজউকের সদস্য মো. মুনির হোসাইন খান, পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার অপারেটর (প্রকল্প) মো. ওবায়দুল্লাহকেও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিসম্পাপ্তি ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করা হয়। পরে গত ২০ জুন অভিযোগ পরিসমাপ্তিকরণ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন থেকে গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে জানানো হয়।

সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলেছিল ২০১৯ সালে। এরপর ধারাবাহিকভাবে দুদকে উপস্থিত হয়ে নিজের সম্পদের হিসাব দিয়েছেন তিনি। একপর্যায়ে দুদক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিসমাপ্তির সিদ্ধান্ত নেয়। আবদুর রহমানকে রাজউকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ২০১৭ সালের ২২ জুন। তিনি অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবে রাজউকের সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সড়ক ও জনপথ ক্যাডারের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে উপসচিব হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। এরপর দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বেপজার সদস্য (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে। ২০১৫ সালের এপ্রিলে বেপজা থেকে রাজউকে যোগ দেন তিনি।

সদস্য থেকে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন মো. সাইদ নুর আলম। তিনি রাজউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) পদে কর্মরত ছিলেন। প্রকৌশল বিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮৬ ব্যাচের এ কর্মকর্তার নিজ জেলা সাতক্ষীরা।

মো. মুনির হোসাইন খান রাজউকের বর্তমান সদস্য। যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তার বাড়ি মাদারীপুরে। তার বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সমাপ্তি করা হয়েছে। এছাড়া উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল ইসলামকেও একই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল বুধবার রাতে রাজউকের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যখন অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়, তখন তা ফলাও করে প্রচার করা হয়। কিন্তু যখন আমরা এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাই তখন আর কেউ খবর নেয় না। এটা খুবই আত্মঘাতী আচরণ। অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেও একইভাবে সংবাদ পরিবেশন করা উচিত। আর এভাবে যদি অভিযোগ তোলা হয়, তাহলে রাজউকে কেউ নিবেদিত হয়ে কাজ করবে না। এখনই সরকার অনেক সময় যোগ্য কর্মকর্তা খুঁজে পায় না রাজউকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। রাজউকে দায়িত্ব পালন করেছে, কিন্তু এ ধরনের হয়রানির শিকার হয়নিএমন কর্মকর্তার সংখ্যা খুবই কম। যাই হোক শেষ পর্যন্ত আমরা জ্ঞাত আয়ের উৎস-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাচ্ছি এটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত