সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে ভোটগ্রহণ করা যাবে বলে আদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত চলমান বিধিনিষেধের (লকডাউন) মধ্যে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত চেয়ে গত ২৫ জুলাই স্থানীয় সাতজন বাসিন্দা ও ভোটার এবং সুপ্রিম কোর্টের ছয় আইনজীবীর পক্ষে একটি রিট আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে গত ২৬ জুলাই এক আদেশে ওই আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিতের নির্দেশ দিয়ে ৫ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য রেখেছিল হাইকোর্ট। এ আদেশের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিলেট-৩ আসনে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। গতকাল হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, ৭ সেপ্টেম্বরের আগে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে ওই আসনে ভোটগ্রহণ করা যাবে। ভার্চুয়ালি রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও বিপুল বাগমার।
কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চ মারা যান সিলেট-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে ২১ মার্চ এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে ওই আসনে ২৮ জুলাই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে ইসি। ৩ লাখের বেশি ভোটারের এই নির্বাচন অনুষ্ঠান সরকারের বর্তমান লকডাউন নীতির বিরোধী উল্লেখ করে রিট আবেদনে বলা হয়, সিইসি নির্বাচন নিয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বললেও সংবিধানের ১২৩-এর ৪ দফার শর্তানুযায়ী ওই উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। সংবিধানের ১২৩-এর (৪) ধারা অনুযায়ী, সংসদ ভেঙ্গে যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে শূন্যপদ পূর্ণ করতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী কার্যত ওই আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
