পিয়াসার বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ০১:৪১ এএম

আলোচিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার বিরুদ্ধে এবার পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ইন্সপেক্টর মামুন হত্যাকান্ডে জড়িতদের ব্যাপারে তথ্য পায় তদন্তকারী সংস্থার সদস্যরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পিয়াসা ও গ্রেপ্তার হওয়া আরেক মডেল মরিয়ম আক্তার মৌকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। অপরদিকে পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার পিয়াসার দুই সহযোগী মিশু হাসান ও জিসানের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৮ সালে রাজধানীর বনানীতে ইন্সপেক্টর মামুনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর আলোচনায় আসেন পিয়াসা ও তার একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নজরুল ইসলাম রাজ। ইন্সপেক্টর মামুনের সঙ্গে ওই দু’জনেরই সুসম্পর্ক ছিল। পরে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধ নিয়ে মামুনের সঙ্গে তাদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকা-ের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। কিন্তু কারাগারে আটক পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান হস্তক্ষেপ করায় পুলিশ আর তদন্ত করেনি। পিয়াসার সঙ্গে মিজানের সুসম্পর্ক ছিল ব্যাপক। আর এ কারণে পুলিশও পিয়াসাকে সমীহ করে চলত।

এ বিষয়ে ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে হত্যার বিষয়টি নজরে আসার পরপরই পিয়াসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করছেন তিনি। তবে আমরাও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ওপর রেখেছি। তার কাছ থেকে প্রতিনিয়ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, গতকাল পিয়াসার সহযোগী মিশু ও জিসানকে আদালতে ওঠানোর পর শুনানি শেষে পৃথক তিন মামলায় মিশুর ৯ দিন এবং পৃথক দুই মামলায় জিসানের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামনুর রশিদের আদালত। এর আগে অস্ত্র, পর্নোগ্রাফি এবং মাদক আইনের মামলায় মিশুর বিরুদ্ধে ১০ দিন করে ৩০ দিন এবং জিসানের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন একই থানার আরেক তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক মিশুর ৯ দিন এবং জিসানের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, পিয়াসা এবং মৌয়ের প্রধান সমন্বয়ক শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের বিরুদ্ধে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে গোয়েন্দাদের কাছে। পিয়াসা ও মৌকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে এনে তাদের চারজনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র ও চোরাচালানসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ এরই মধ্যে তদন্ত করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত