নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকারিয়া আহমেদের বাবা মো. মিলন মিয়া (৫০)।
জাকারিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বাবা মো. মিলন মিয়ার। পরে বুধবার রাত ১টায় জাকারিয়া তার অসুস্থ বাবা, মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে নরসিংদী থেকে রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আসি। ভোরে সেখানে পৌঁছে কোনো বেড বা আইসিইউ খালি পাওয়া যায়নি। পরে সকাল ৯টায় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে গিয়ে সেখানেও আইসিইউ বেড মেলেনি। শেষে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফাঁকা আইসিইউ বেডের খবর পেয়ে রওনা হন তারা । হাসপাতালে যাওয়ার পথে রাত ৯টায় অ্যাম্বুলেন্সেই মারা বাবা।
হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার পাশাপাশি বাজে আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন জাকারিয়া। ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেইসবুকে আক্ষেপ ও হতাশার কথা লেখেন জাকারিয়া।
জাকারিয়া বলেন, হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটের সবগুলা আইসিইউ ভরা ছিল। হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে যদি একটা আইসিইউ খালি থাকত, তাহলে আব্বা বাঁচতেন। সময়মতো আমরা একটা নরমাল বেডও পাই নাই। করোনা কতটা ভয়ংকর রোগ এটা আমি আমার আব্বাকে হাসপাতালে-হাসপাতালে নিয়ে না ঘুরলে বুঝতাম না।
তিনি বলেন, অনুগ্রহ করে বলছি, সবাই সাবধানে থাকুন, না হলে আপনিও আমার বাবার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাবেন।
ফেইসবুকে লেখেন, ‘‘এ মাত্র আব্বাকে দাফন করে আসলাম।
বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে নিজেকে আজকে খুবই অসহায় আর হতভাগা মনে হচ্ছে। যে দেশ তার নাগরিককে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দিতে পারে না, একজন মুমূর্ষু রোগীকে বেড দিতে পারে না, সেই দেশে আইসিইউ আশা করা বোকামি। কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে আমার আব্বাকে মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পর ও ওরা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা তো দূরে থাক, উল্টা বাজে ব্যবহার করে দিছে ।
সরকারি হাসপাতাল বাদ দিলাম কোনো প্রাইভেট হাসপাতালেও ভর্তি করায় নাই, আমার বাবার শ্বাসকষ্টতে সিরিয়াস অবস্থা ছিল, এটা দেখার পর প্রাইভেট থেকে কোনো চিকিৎসা দিতে রাজি করাতে পারি নাই তাদেরকে। উল্টা তারা বেড খালি নাই বলে বের করে দিছে।
সবার উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলতে করোনা কত ভয়ংকর রোগ এটা আমার আব্বাকে নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে না ঘুরলে নিজেও বিশ্বাস করতাম না। সবাইকে সাবধানে থাকার জন্য অনুরোধ করতাছি। কারণ ঢাকার ভিতরে কোনো হাসপাতালেই সিট খালি নেই।
আমার আব্বার জন্য সবাই দোয়া করবেন’’।
