সিনোফার্ম

আরও ছয় কোটি ডোজ টিকা আসছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২১, ০১:৫৯ এএম

ব্যাপকভাবে টিকা প্রদানের লক্ষ্যে চীন থেকে সিনোফার্মের আরও ৬ কোটি ডোজ টিকা আসছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এর মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি করে ৪ কোটি ডোজ টিকা আসবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাকি টিকাও দেশে পৌঁছাবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ফিল্ড হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম এরইমধ্যে শুরু করতে আমরা সক্ষম হয়েছি এবং ৫০ লাখের মতো মানুষকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। টিকার ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।’

বিশ্বজুড়েই টিকার সংকট রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো দেশ নেই যেখানে আমরা টিকার সন্ধান না করেছি। প্রতিটি জায়গায় আমাদের দূতাবাস কাজ করছে। চীন থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা আনার জন্য আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম, এখন আরও ৬ কোটি টিকা আনার জন্য আমরা চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি। অর্থাৎ আগে যে দেড় কোটি কনসার্ন চুক্তি ছিল তার সঙ্গে আরও ৬ কোটি মিলিয়ে মোট সাড়ে ৭ কোটি ডোজ টিকা চীন থেকে আনার চেষ্টা করছি আমরা। আর তাতে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। এখন আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়ে যাব।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা আশা করি, যেভাবে চীন বলেছে- নভেম্বরের মধ্যে প্রতি মাসে সমহারে আমরা টিকাগুলো পাব। তারা যদি তাদের কমিটমেন্ট ঠিক রাখে, তাহলে অক্টোবরে ২ কোটি ও নভেম্বরে ২ কোটি টিকা পাব।’

আইসিইউ সংকট দূর করতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে, কিন্তু হাসপাতালের বেড খালি নেই। এটি দূর করা যায়নি। এছাড়া রয়েছে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সংকট। সময় এসেছে করোনাভাইরাসের রোগী কমানোর। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার আইসিইউ রয়েছে। তারপরও আমরা আইসিইউ সংকট দূর করতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ঢাকায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ছয় হাজার শয্যা রয়েছে। তার মধ্যে এখন এক হাজার শয্যাও খালি নেই। এই পর্যায়ে আমরা আছি।’

কোভ্যাক্স সুবিধার আওতার টিকা সরবরাহও বজায় থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টিকা আমরা গ্রামে নিয়ে যেতে চাচ্ছি। শহরের লোকেরা টিকা মোটামুটি পেয়েছে। গ্রামের বয়স্ক লোকেরা সেভাবে টিকা গ্রহণ করেনি। তাদের মধ্যে অনীহাও ছিল। আমরা সেই জন্য টিকা তাদের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। ঢাকা শহরে যে ৭৫ শতাংশ রোগী আছে তাদের বেশির ভাগই গ্রাম থেকে আসা এবং ৯০ শতাংশই টিকাবিহীন, তারা টিকা নেননি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা রোগীদের পাশাপাশি নন-কভিড রোগীই ৮০ শতাংশ। তাদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে আবার ডেঙ্গু এসে ঘাড়ে উঠেছে।’

করোনায় নারীদের আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আগে মহিলাদের মৃত্যু-আক্রান্ত ছিল প্রায় ২০-২৫ ভাগ। এটা এখন প্রায় ৪৫ শতাংশ। এই আক্রান্ত-মৃত্যুর সংখ্যা কেন বাড়ছে, এটা খেয়াল করতে হবে।’

রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি হাসপাতালের ওপর কেমন চাপ ফেলছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত দুই মাসের তুলনায় রোগী বেড়েছে সাত গুণ। আমরা টিকার কাজ করছি, ডাক্তাররাও কাজ করছে। এছাড়া ফিল্ড হাসপাতাল, বেড আমরা বাড়িয়ে চলছি। কিন্তু এটারও তো একটা সীমা আছে। কতটুকু আর করা যেতে পারে?’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত