মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি

৪০০ মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্যচিত্রের উদ্যোগ

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২১, ০১:৪৩ এএম

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের বিকৃতি ঠেকানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে মুক্তিযুদ্ধের অডিও ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হবে। ৪০০ বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হবে। এজন্য বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ফিল্ম মিউজিয়াম স্থাপন করারও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২০২৩ সাল নাগাদ এই কাজ সম্পন্ন করতে চায়।

ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ‘দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে মুক্তিযুদ্ধের অডিও ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পটি একনেকে পাস হলে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এটির বাস্তবায়ন করবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশে এবং বিদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মহান মুক্তিযুদ্ধের অডিও-ভিডিও ফুটেজ এবং মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দলিলপত্রাদি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ করা সম্ভব হবে। চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের জুন নাগাদ এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এতে ব্যয় হবে ৬২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দুপ্রাপ্য ও ধ্রুপদী অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল মুদ্রণ, পুনর্মুদ্রণ, দীর্ঘকালীন অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল সংরক্ষণ এবং শিক্ষা ও গবেষণার জন্য সংগৃহীত অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিলসমূহ সময়ে সময়ে পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে পুনর্মুদ্রণ, মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত গ্রন্থ, সাময়িকী, প্রকাশনা, গানের বই, পোস্টার, প্রচারপত্র, স্থিরচিত্র, পান্ডুলিপি ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল আর্কাইভের সংগ্রহ থেকে নিয়মিত প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা, আর্কাইভ এবং চলচ্চিত্র সংক্রান্ত বিশেষায়িত লাইব্রেরিতে গবেষক, শিক্ষার্থী ও চলচ্চিত্রসেবীদের পড়াশুনার সুযোগ সম্প্রসারণ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ, সভা ইত্যাদির আয়োজন, দেশে বিদেশি ছবি এবং বিদেশে দেশীয় ছবি প্রদর্শনের জন্য চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবায়নের নিমিত্তে একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মকবুল হোসেনকে একাধিকবার মোবাইলে কল দিলেও তিনি ধরেননি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত