পাকিস্তানে প্রতি বছর প্রায় চার হাজার শিশু নিখোঁজ হয়। অঙ্গহানি, সহিংসতা, পাচারের শিকার হয় এসব শিশু। নিখোঁজ শিশুদের বাবা-মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে রোশনি হেল্পলাইন ও বার্জার মিলে শুরু করে অভিনব এক উদ্যোগ। ট্রাকের পেছনে নিখোঁজ শিশুদের ছবি আঁকা হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় যোগাযোগের নাম্বার। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
সড়কজুড়ে ট্রাক আর্ট
বাড়ির পাশের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে সকালে খেলতে বের হয়েছিল ৭ বছর বয়সী আলতাফ। সন্ধ্যার পরও বাড়ি ফিরে না আসায় শুরু হয় অনুসন্ধান। আলতাফের আর খোঁজ মেলেনি। তার বাবা-মা আজও জানেন না আলতাফ কোথায় আছে, কেমন আছে। পাকিস্তানের করাচির নিত্যদিনের ঘটনা এটি। কোনো না কোনো এলাকা থেকে শিশু-কিশোররা হারিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানে বছরে প্রায় তিন হাজার শিশু নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ শিশুদের অধিকাংশই কিডন্যাপ, সহিংসতা, অঙ্গহানি ও পাচারের শিকার হয়। এসব বিষয়ে পাকিস্তানের প্রান্তিক এলাকাগুলোতে সচেতনতা খুব কম। শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নিখোঁজ হয় যেখানে মিডিয়া কভারেজ পৌঁছায় না। হারানো শিশুদের খুঁজে পেতে অসহায় বাবা-মায়েরও করার মতো কিছু থাকে না। দিন ফুরিয়ে যায়, বছর ঘোরে। কিন্তু বাবা-মায়ের কোলে শিশু ফিরে আসে না। ভীষণ মন খারাপ করা এই বিষয়টি নাড়া দিয়েছিল রোশনি হেল্পলাইন নামে একটি এনজিওকে। তারা সিদ্ধান্ত নেয় যেভাবেই হোক হারানো শিশুদের বাবা-মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেবে। বিষয়টি নিয়ে তারা আলোচনা করে পাকিস্তানের অ্যাডভার্টাইজিং প্রতিষ্ঠান বিবিডিও পাকিস্তান, পাকিস্তানি আর্টিস্ট/অ্যাক্টিভিস্ট সামার মিনাল্লাহ’র সঙ্গে। কীভাবে এই হারিয়ে যাওয়া শিশুদের ফিরে পাওয়া যায় তা নিয়ে শুরু হয় পরিকল্পনা। সবাই মিলে এমন কোনো মাধ্যম খুঁজছিলেন যেটি দিয়ে সহজে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। সিদ্ধান্ত হলো পাকিস্তানের স্থানীয় চিত্রকর্ম নিয়ে কাজ করার। এটি ছিল পাকিস্তানের ‘ট্রাক আর্ট’।
ট্রাক কমবেশি পাকিস্তানের সব রাস্তাতেই যাওয়া-আসা করে। এসব ট্রাকের পেছনে আঁকা থাকে নানা ধরনের ফুল, বিভিন্ন উক্তি, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি ও ক্যালিগ্রাফি। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকায় প্রায়ই দেখা যায়, অভিনেতা, খেলোয়াড়, সেনাপ্রধান ও রাজনীতিবিদদের। আলোচনায় সবাই বুঝলেন, ট্রাকের পেছনে যদি বাচ্চাদের ছবি এঁকে দেওয়া হয়, তাহলে প্রান্তিক এলাকা পর্যন্ত পৌঁছানো সহজ হবে। হারানো শিশু সম্পর্কে সবাই জানতে পারবে। ক্যাম্পেইনের নাম দেওয়া হলো ‘ট্রাক আর্ট চাইল্ড ফাইন্ডার’। পরিচিত ব্যক্তিদের চেহারার বদলে ট্রাকের আর্টিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্রাকের পেছনে আঁকা হলো হারানো শিশুদের মুখ। কোনো হারানো বাচ্চার সন্ধান পেলেই রোশনি এনজিও’র হেল্পলাইনে ফোন দেওয়ার কথা জানানো হলো। এই ছবি আঁকার জন্য সবচেয়ে জরুরি ছিল রং। এত রং কোথায় কীভাবে পাওয়া যাবে ভাবতেই এগিয়ে এলো বার্জার পেইন্টস। রোশনি এনজিও’র এত সুন্দর পরিকল্পনার অংশীদার হতে চাইল তারাও। যত রঙের প্রয়োজন তারা পৌঁছে দিল আর্টিস্টদের কাছে।
২০১৯ সালে শুরু করা এই ক্যাম্পেইনটি মানুষের কাছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে পৌঁছেছিল। এসব ট্রাকের প্রতিটি পুরো পাকিস্তানে প্রায় ৫০ হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলাফেরা করে। যেহেতু প্রান্তিক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন, তাই এই ট্রাকগুলো দূরবর্তী এলাকায় অনুসন্ধানের খবর পৌঁছাতে অনেক সাহায্য করল। এই অভিনব প্রক্রিয়ার কথা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মিডিয়াও নড়েচড়ে বসল। প্রথম সপ্তাহে হারানো বাচ্চাদের নিয়ে আর্ট করা ট্রাকগুলো ছড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান জুড়ে। অবিশ্বাস্য সাড়া মেলে প্রথম সপ্তাহেই। পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৩১৩টি কল আসে। ক্যাম্পেইন শুরুর চার সপ্তাহের মধ্যে তিন জন শিশুর সন্ধান মেলে। এক কথায়, ক্যাম্পেইন সফল হয়।
সফলতা
প্রথম চার সপ্তাহে পাকিস্তানের সড়কজুড়ে ২০টি ট্রাক চলাচল শুরু হয়। সেই ট্রাকে আঁকা ছবি অনুসরণ করে কল দিলে ৩ জন শিশুর সন্ধান মেলে। তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় নিরাপদে। ট্রাকে ১০৪ জন শিশুর নাম লেখা ছিল। এই চার সপ্তাহে পাকিস্তানের ৩৯টি শহর থেকে ১০১৫টি কল আসে।
প্রশংসিত উদ্যোগ
বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো যদি সামাজিক সমস্যা সমাধানে নানা কাজে এগিয়ে আসে তবে সমাজ বদলানো সম্ভব বলে মানেন বিশিষ্টজনেরা। হংকং-এর ডিডিবি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর জামাল হামিদি বলেন, ‘এই কয়েক বছরে আমরা দেখেছি, বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো সামাজিক নানা কাজে নিজেদের যুক্ত করেছে। তাদের এ কাজ করা যে খুব জরুরি এমন নয়। তবু তারা এগিয়ে এসেছে। অবশ্যই পৃথিবীর জন্য এটি খুব ভালো কাজ। তবে বেশিরভাগ সময় তাদের কাজগুলো অযৌক্তিক মনে হয়। মনে হয় যেন তারা জড়িত হওয়ার জন্য ভালো কোনো কারণ পায়নি। বার্জার পেইন্টসের এমন সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাতে হয়। কারণ তারা শুধু ভালো কাজ করেছে তাই নয়, তাদের কাজটি অন্যদের চেয়ে একদম ব্যতিক্রম। কোনো মিডিয়া ঐতিহ্যবাহী ট্রাক আর্ট নিয়ে বিশেষ কিছু বলে না। অথচ এই আর্ট দিয়েই হারিয়ে যাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে খুব সাধারণ, একই সঙ্গে অনন্য এবং সবচেয়ে জরুরি একটি সামাজিক সমস্যা সমাধানে বার্জার এগিয়ে এসেছে।’
বিবিএইচ সিঙ্গাপুরের সিসিও জোয়াকিম বর্গস্ট্রম বলেন, ‘পাকিস্তানের ক্লাসিক আর্টকে খুব চমৎকারভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। শিশুরা যেন চাকায় ঘুরে ঘরে ফিরে আসছে। যদি এমন কাজ আরও বেশি হতো তাহলে দারুণ হতো। অনেক সমস্যার সমাধান করা যেত।’
সাড়া
ট্রাক আর্ট পাকিস্তানের পুরনো একটি ঐতিহ্য। এর সঙ্গে যখন পাকিস্তানের সমস্যাই যুক্ত হয়েছে তখন মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এটি। মধ্যপ্রাচ্য ও পাকিস্তানের বিবিডিও এর আঞ্চলিক ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর আলি রেজ বলেন, ‘এটি এমন এক বাস্তবিক সমস্যা যার জন্য স্ট্র্যাটেজিক সমাধান প্রয়োজন। নিখোঁজ শিশুরা খুব কম সময়ের মধ্যে দেশের বাইরে পাচার হয়ে যায়। তাদের হারিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মোবাইল মেকানিজমের প্রয়োজন ছিল। ট্রাকগুলো এসব কাজের জন্য একদম ফিট। পাকিস্তানিরা অল্প বয়স থেকেই ট্রাক আর্ট দেখে বড় হয়েছে। তাদের সঙ্গে এই আর্টের আত্মিক একটি সম্পর্ক আছে।’
২০টি ট্রাক দিয়ে ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার আট মাসের মধ্যে ৫০০ ট্রাক রাস্তায় নেমেছিল শিশুদের ছবি নিয়ে। এই ক্যাম্পেইন এভাবেই চলমান থাকবে কি-না সে বিষয়ে আলি রেজ বলেন, ‘আমরা চাই এটাই রেগুলার আর্ট হয়ে উঠুক। যতক্ষণ ব্র্যান্ডগুলোকে জোর দিয়ে কাজ চালানো যায়। কারণ তারা কতদিন এভাবে ক্যাম্পেইন চালাবে সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাদের। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ট্রাক ড্রাইভাররাও শিল্পীদের বলেছেন, তারা যেন নিয়মিত নিখোঁজ শিশুদের ছবি ট্রাকের পেছনে আঁকেন। এই পরিবর্তনটাও দেখার মতো। অচেনা মানুষেরাও যেন একে অপরের পরিবার হয়ে উঠেছে এই কাজে এসে। সবচেয়ে বড় অবদান অবশ্যই এনজিওগুলোর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা নিখোঁজ শিশুদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে। সবার অবদানেই ট্রাক আর্ট হয়ে উঠেছে মানুষের আস্থার জায়গা।’
রোশনি এনজিও
রোশনি হেল্পলাইনের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ২০০২ সালে। সে বছর মোহাম্মদ আলি ছয় বছর বয়সী একটি মেয়েকে মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন। মেয়েটির করুণ অবস্থা সত্ত্বেও যখন কোথাও সাহায্য পেলেন না, বুঝলেন এটা খুব জটিল একটি সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও কোনো কর্র্তৃপক্ষ একে সিরিয়াসলি নিচ্ছে না। তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিখোঁজ শিশুদের নিয়ে কাজ করবেন। প্রতি বছর তিন থেকে চার হাজার শিশু করাচি থেকে নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে ১১০টি পুলিশ স্টেশনও আছে। অথচ এসব পুলিশ স্টেশনের কোথাও এই শিশুদের নিয়ে নিখোঁজ রিপোর্ট লেখা হয় না। মোহাম্মদ আলি সিদ্ধান্ত নিলেন নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে তিনি কাজ শুরু করবেন। প্রতিষ্ঠা করলেন রোশনি হেল্পলাইন।
কোনো শিশু হারিয়ে গেলে সবচেয়ে জরুরি সেটার প্রচার হওয়া। এই লক্ষ্য থেকে রোশনি হেল্পলাইন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এর মধ্যে আছে- দোকানদার, পানওয়ালা, ইমাম ও হিজড়া। এমনকি রাস্তায় যারা বিনোদন দেয়, তাদেরও এ কাজে যুক্ত করা হয়েছে যেন কোনো শিশু হারালে তাদের মাধ্যমেও মানুষকে জানানো যায়।
রোশনি এনজিও’র পক্ষ থেকে একটি সচেতনতামূলক ভিডিও বানানো হয়েছিল। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন শিশু মিলে রাস্তায় ক্রিকেট খেলছে। একটি বাইকে দুজন লোক এসে একটি শিশুকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায়। শুরুর অংশটুকু দেখলে যে কেউ শিশুটি কিডন্যাপ হয়েছে বলে ভুল বুঝবে। পরের অংশে দেখা যায়, সেই লোক দুজন শিশুটিকে রাস্তায় বন্ধুদের মধ্যে রেখে যাচ্ছে। তাদের হাতে একটি কাগজ। তাতে লেখা, ‘করাচির রাস্তা থেকে একটি শিশুকে এভাবে কিডন্যাপ করে নেওয়া খুব সহজ। নিজের সন্তানের ওপর নজর রাখুন।’ যদিও এত চেষ্টার সব সফল হয়নি। সব চেষ্টাকে ছাপিয়ে ট্রাক আর্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এমন সচেতনতামূলক একটি ক্যাম্পেইনের কোনো অপব্যবহার হতে পারে কি-না তা নিয়ে আলি রেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে এত মহৎ কাজেরও অপব্যবহার হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসবের কোনোটাই কারও হাতে নেই। আমরা যেভাবে ভাবি সব সময় তেমন হয় না। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে এই অপব্যবহারের সংখ্যা কম হবে।’
এই ক্যাম্পেইনের সাড়া এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। আলি রেজ বলেন, ‘চার সপ্তাহে সড়কে ২০টি ট্রাক, ৩৯টি শহর থেকে ১১০৫টি কল আসে। ১০৪ জন নিখোঁজ শিশুর সন্ধান শুরু হয়। অবশ্যই এই কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব জরুরি ছিল। রোশনি সেই কাজের সঙ্গে সঙ্গে জনসচেতনতাও তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ যেখানে বাবা-মায়ের নিখোঁজ সন্তান নিয়ে রিপোর্ট লিখতে আগ্রহ প্রকাশ করে না, সেখানে অসহায় বাবা-মায়ের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে রোশনি।’
কাইটস অফ হোপ
২০১৬ সালের মার্চ মাসে করাচির মেহমুদাবাদের একটি পার্কে ঘুরতে গিয়েছিল একটি পরিবার। ভিড়ের মধ্যে তারা একটি ঘুড়ি খুঁজে পেলেন। তাতে একটি ছোট শিশুর সাদাকালো ছবি লাগানো ছিল। কয়েকজন লোক মিলে ঘুড়িতে শিশুদের ছবি লাগাচ্ছেন। পরিবারটি বুঝতে পারল, নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পাওয়ার একটি ইভেন্ট এটি। কিছুদিন পর এই পরিবার থেকেই ঘুড়িতে লেখা একটি নম্বরে কল দেওয়া হয়। বলা হয়, ‘আপনারা যে শিশুটির ছবি ঘুড়িতে লাগিয়েছিলেন তাকে আমরা সোহরাব গোথের একটি হোটেলে কাজ করতে দেখেছি।’
ঘুড়ি উড়িয়ে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে রোশনি এনজিও’র সঙ্গে কাজ করেছিল ঝঢ়বপঃৎঁস ণ্জ ধহফ ণ্জ ঝরহমধঢ়ড়ৎব। এই ক্যাম্পেইনের নাম ছিল ‘কাইটস অফ হোপ’। স্থানীয় উৎসবে ঘুড়িতে নিখোঁজ শিশুদের ছবি লাগিয়ে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হতো।
ঝঢ়বপঃৎঁস ণ্জ এর ক্রিয়েটিভ ম্যানেজার আজমিনা আফরিন বলেন, ‘নিখোঁজ শিশুদের সম্পর্কে অনেক তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সমাজের বৃহত্তর অংশের মধ্যে এই সমস্যা নিয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম আমরা। এ জন্য পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক চিহ্ন বেছে নিয়ে তাকেই সামাজিক বাহন করে তুলতে চেয়েছিলাম।’
ঘুড়িকে বেছে নেওয়ার দুটো কারণ ছিল। এক, একটি ঘুড়ি কেবল একবার ওড়ে না। সুতা কেটে মাটিতে পড়ে। অন্য কেউ এটি তুলে নেয় এবং আবারও ওড়ায়। এভাবে ঘুড়ির হাতবদল হয়। একে একে নানাজনের মধ্যে বার্তাটি পৌঁছে যায়। দুই, ঘুড়ি অল্প দূরত্বে ওড়ে না। অনেক উঁচুতে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত এটি পৌঁছায়। এভাবে দূরের মানুষও নিখোঁজ শিশুটি সম্পর্কে জেনে যায়।
এই কাজের জন্য প্রথমবারেই দুই হাজার ঘুড়ি প্রিন্ট করা হয়। এতে আসল ছবি থেকে সাদা কালো করে ছবি বানানো খুব কঠিন কাজ ছিল। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বাবা-মায়ের কাছে ভালো কোনো ছবি ছিল না। কোনো গ্রুপ ছবি থেকে নিখোঁজ শিশুর ছবি কেটে নিয়ে কাজ করতে হতো। এতে ছবি বেশিরভাগ সময়েই ঝাপসা আসত।
যে শিশুটির কথা বলা হচ্ছে সে এ ঘটনার কয়েক মাস আগে শাহ ফয়সাল কলোনি থেকে হারিয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার পর একটি রিপোর্টও করা হয়েছিল। রোশনি হেল্পলাইনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য আসলে এটা ছিল না। কাইটস অফ হোপের মাধ্যমে আমরা মানুষের মধ্যে নিজেদের সন্তানকে নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে চেয়েছি। সেই উদ্দেশ্য সেভাবে সফল না হওয়ায় তিনজন শিশু উদ্ধারের পরই ক্যাম্পেইনটি আমরা বন্ধ করে দিই।’
