বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি (গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস) অনুসরণ না করে বরিশালের ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসসহ ২০টি ওষুধ কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধ করা নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করায় স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মহাপরিচালকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত। অন্যরা হলেন- ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।
এ সংক্রান্ত একটি আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে ওষুধ কোম্পানিগুলোর জিএমপি নীতি অনুসরণ এবং জিএমপি অনুসরণের সক্ষমতা অর্জনের ভিত্তিতে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের অনুমোদন সংক্রান্ত আদালতের রায় অমান্য করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না- রুলে তা চার সপ্তাহের মধ্যে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তার সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আবেদনকারী আইনজীবী রিপন কুমার বাড়ৈ।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, জিএমপি অনুসরণ না করে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে ২০১৬ সালের মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট মামলা করে। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৪ আগস্ট ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস-সহ ২০ টি ওষুধ কোম্পানির ওষুধ উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জিএমপি অনুসরণের সক্ষমতা অর্জনের পর অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের অনুমতি প্রদানের কথা বলা হয় রায়ে। পাশাপাশি রিট মামলার বিবাদীদের এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ইন্দোবাংলা অবৈধভাবে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন ও বিক্রি করছে এমন সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এইচআরপিবির পক্ষে মামলার বিবাদীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনার আবেদন করা হয়। এ আবেদনের শুনানি শেষে আদালত অবমাননার রুল জারি করল হাইকোর্ট।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক একটি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। সে কারণে হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছেন। কিন্তু ইন্দোবাংলা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন ও তা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করছে।’
