অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশ সিএমএস তহবিলে হস্তান্তর

অর্জিত সুদ প্রদান থেকে অব্যাহতি চায় বিএপিএলসি

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ১২:৪৪ এএম

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) কর্তৃক গঠিত ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ড বা পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ (সিএমএস) তহবিলের আকার কিছুটা ছোট হতে পারে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশ থেকে অর্জিত সুদ আয়ের অর্থ উক্ত তহবিলে জমা দেওয়ার বিধান থেকে অব্যাহতি চেয়েছে। গতকাল এক চিঠির মাধ্যমে ওই সুদ আয়ের অর্থ তহবিলে জমা দেওয়া থেকে অব্যাহতি চেয়ে এসইসিতে চিঠি দিয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)।

অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশ থেকে অর্জিত সুদ আয়ের অর্থ অধিকাংশ কোম্পানি আয় খাতে নিয়ে যাওয়ার কারণে তা পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিলে জমা দেওয়া অনেকটাই অসম্ভব বলে জানিয়েছে বিএপিএলসি। এটা করতে হলে বিগত বছরগুলোর নিরীক্ষিত প্রতিবেদন পুনঃনিরীক্ষা করতে হবে, যা অত্যন্ত জটিল। তাই কোম্পানির অ্যাক্রুড হিসাবে থাকা অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশ থেকে অর্জিত সুদ আয়ের অর্থ তহবিলে জমা প্রদান থেকে অব্যাহিত চেয়ে নির্দেশনা জারি করতে এসইসির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বিএপিএলসি। 

গত ৩০ জুন ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ড গঠন সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করে এসইসি। এতে তিন বছর বা তার বেশি সময় কোম্পানি বা মিউচুয়াল ফান্ড পড়ে থাকা অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশ, বোনাস শেয়ার, রাইট শেয়ার ও পাবলিক সাবস্ক্রিপশনে পড়ে থাকা অর্থ এই তহবিলে স্থানান্তর করতে হবে। নগদ লভ্যাংশ বা অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা থাকায় কোনো সুদ অর্জিত হলে, তাও এ তহবিলে প্রদান করতে হবে। নগদ লভ্যাংশ, বোনাস ও রাইট শেয়ার তহবিলে হস্তান্তরের সময় লভ্যাংশের বছর, শেয়ারহোল্ডারদের নাম, বিও নম্বর, স্থায়ী ও যোগাযোগের ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য তহবিলকে জানাতে বলা হয়েছে কোম্পানিকে।

অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশ ও শেয়ার গত জুলাই মাসের মধ্যে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিলে হস্তান্তরের নির্দেশনা জারি করলেও পরে বিএপিএলসির অনুরোধে তা চলতি আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ায় এসইসি। তবে কোম্পানির অ্যাক্রুড হিসাবে থাকা নগদ লভ্যাংশ থেকে অর্জিত সুদ আয় তহবিলে জমা নিয়ে নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

গতকাল বিএপিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৪ জুনের আগে অ্যাক্রুড হিসাবে থাকা অদাবিকৃত নগদ লভ্যাংশ ও নন-রিফান্ডেড পাবলিক সাবস্ক্রিপশনের অর্থের সুদ বিষয়ে কোনো গাইডলাইন ছিল না। এর আগ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ওই ধরনের হিসাব থেকে অর্জিত সুদ আয় খাতে নিয়ে সংশ্লিষ্ট হিসাব বছরে অপরিচালন মুনাফা হিসেবে দেখিয়ে আসছে। ফলে বিএপিএলসির সদস্য কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফায় উন্নতি হয়েছে। নিট মুনাফার ওপর কোম্পানিগুলো কর পরিশোধ করেছে, লভ্যাংশ দিয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এ ধরনের সুদ আয় কোম্পানিগুলোর আয়ে প্রভাব ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই সুদ আয় তহবিলে জমা দিয়ে বিগত বছরগুলোর নিরীক্ষিত প্রতিবেদন পুনঃনিরীক্ষা করা অত্যন্ত জটিল বিধায় তা থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানিয়েছে বিএপিএলসি।

এ বিষয়ে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোম্পানিগুলো যদি আবেদন জানায়, তাহলে কেস টু কেস ভিত্তিতে কমিশন তা বিবেচনা করতে পারে। 

কমিশন সূত্র জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে দুই শতাধিক কোম্পানির কাছে অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে তিন বছর বা তার আগের বছরগুলোর পড়ে থাকা অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ হবে প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ টাকাই ফান্ডের ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এ তহবিল নগদ অর্থের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ সরাসরি তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচার জন্য ব্যবহার করতে পারবে। স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর পর্যন্ত ১৩০ কোম্পানির কাছে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি নগদ লভ্যাংশ পড়েছিল। এর মধ্যে ২০ থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি নগদ লভ্যাংশ পড়েছিল ২০টির অধিক কোম্পানিতে।

এ হিসাবে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোনের কাছে সর্বাধিক ১৯০ কোটি টাকার অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু গত ৩১ মার্চ সমাপ্ত এ কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমানে গ্রামীণফোনের কাছে অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশ রয়েছে ১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

নভেম্বরে প্রাপ্ত তথ্য তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা অবণ্টিত লভ্যাংশ ছিল আইসিবির কাছে। গত ৩১ মার্চ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিবির কাছে অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশ ছিল ৯০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর বাইরে সামিট পাওয়ার, তিতাস গ্যাস, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, লিনডে বিডি, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, পদ্মা অয়েল, বিএসআরএম স্টিলসহ বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে এই অর্থ জমা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত