গত ১১ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কভিড-১৯ সংক্রান্ত কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এক্ষেত্রে ‘লকডাউন’ আরও ১-২ সপ্তাহ চলমান রাখতে পারলে এর পুরোপুরি সুফল পাওয়া যেত বলে মনে করছে কমিটি। এ অবস্থায় সরকারের গৃহীত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে কমিটি।
কমিটি বলেছে, ২৩ জুলাই থেকে ১০ আগস্টের ‘লকডাউন’ (বিধিনিষেধ) কঠোরভাবে পালিত না হলেও জনসমাবেশ হওয়ার মতো বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান বন্ধ থাকায় সংক্রমণ হারে উন্নতি হয়েছে। তবে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার কোনোটাই স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আসেনি। এই অবস্থায় দ্রুত বিধিনিষেধ শিথিল করা বা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক।
জীবিকা ও দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার সরকারের দায়িত্ব উপলব্ধি করে এবং সরকারের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করে কমিটি বলছে, বিধিনিষেধ শিথিলতার ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা তাড়াহুড়া করছে। ফলে সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ কিছু শর্ত সাপেক্ষে ২১ আগস্ট বা কাছাকাছি তারিখ থেকে এমবিবিএস, বিডিএস কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষ ও পঞ্চম বর্ষের ক্লাস চালুর পক্ষে মত দিয়েছে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের এক চিঠির জবাবে পরামর্শক কমিটি এই মতামত দিয়েছে।
কমিটির ৪৪তম অনলাইন সভায় এসব সুপারিশ করা হয় বলে এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। গত শুক্রবার রাতে বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
কমিটির সুপারিশ : মেডিকেল কলেজে ক্লাস চালুর পক্ষে মত দিয়ে কমিটি জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ গত ২১ আগস্ট বা নিকটবর্তী যেকোনো তারিখ থেকে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সের ২য় বর্ষ ও পঞ্চম বর্ষ বা শেষ বর্ষের ক্লাস শুরুর বিষয়ে কমিটির মতামত চেয়ে চিঠি দেয়। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা করে কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ইতিমধ্যে এই শিক্ষার্থীদের দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে এই দুই বর্ষের ক্লাস শুরু করার পক্ষে কমিটি মত দেয়।
এ ক্ষেত্রে কমিটি কিছু শর্ত দিয়েছে। সেগুলো হলো ক্লাস শুরুর আগে সকল শিক্ষার্থীর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ওপর প্রশিক্ষণ করাতে হবে। শতভাগ সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সংক্রমণের ওপর নজরদারি রাখতে হবে। সংক্রমিত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও আইসোলেশন এবং তাদের সংস্পর্শে আসা শিক্ষার্থীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করতে হবে।
লকডাউন শিথিল পরবর্তী পরামর্শ দিয়ে কমিটি জানায়, ন্যূনতম সভা-সমাবেশ, সামাজিক অনুষ্ঠান, পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার ইত্যাদি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখা, রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ব্যবস্থা না রেখে কেবল বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া, সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচল, যে ক্ষেত্রে সম্ভব বাড়িতে বসে কাজ করা এবং অনলাইনে সভা, কর্মশালা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখে অফিস খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।
এ ছাড়া শতভাগ সঠিকভাবে তিন স্তরবিশিষ্ট মাস্ক পরার নিশ্চয়তা ও অন্যথায় পুনরায় বন্ধ করার বিধান রেখে অফিস, আদালত, ব্যাংক, দোকানপাট, বাজার খোলার পক্ষে কমিটি।
কমিটি সদ্য সমাপ্ত টিকা ‘ক্যাম্পেইনের’ মাধ্যমে এক সপ্তাহে ৫০ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তবে বিভিন্ন মহল থেকে টিকা ‘ক্যাম্পেইন’ বিষয়ে বিভিন্ন মতামত দেওয়ায় জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কমিটি মনে করে টিকা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এই বিষয়ে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললে এ রকম পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না।
