চট্টগ্রামে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজার রায়ের পর আসামি কুলসুমা আক্তার কুলসুমীর হয়ে জেলে যাওয়া মিনু আক্তার, তার মৃত্যু এবং কুলসুমীকে গ্রেপ্তার নিয়ে হওয়া দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছে উচ্চ আদালত। মিনুর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং গ্রেপ্তার হওয়া আসামি কুলসুমীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নথিসহ চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার এসআই জুবায়ের মৃধা ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলমকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে ভার্চুয়ালি হাজির থাকতে বলা হয়েছে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেয়।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় মোবাইল ফোন নিয়ে বিবাদের জেরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই খুন হন পোশাক কারখানার কর্মী কোহিনুর বেগম। এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান কুলসুমী। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এক রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের রায় দেয়। এরপর তিন সন্তানের ভরণপোষণের আশ্বাস পেয়ে কুলসুমীর পরিবর্তে বিধবা মিনু ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুমী সেজে চট্টগ্রাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। অন্যের হয়ে কারাভোগের বিষয়টি চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ গত ১৮ মার্চ জানতে পারে। পরে ২২ মার্চ চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট আদালতকে মিনু বিস্তারিত জানান। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ জুন মিনু আক্তারকে মুক্তি নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপর ১৬ জুন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। গত ৪ জুলাই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মারা যান মিনু।
এদিকে বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে হাইকোর্টে করা আপিলটি বিচারাধীন। গত ২৯ জুন আপিলটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন হাইকোর্ট কয়েদি শনাক্তে বিদ্যমান পদ্ধতিতে কারাবন্দির আঙুলের ছাপ, হাতের তালুর ছাপ ও চোখের মণি স্ক্যানিংসহ বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবস্থাপনা চালুর প্রশ্নে রুল জারি করে। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি গতকাল শুনানির জন্য ওঠে। মিনুর পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের পক্ষে করা সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করে হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুনানিতে বলেছি মিনু কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পরেই মারা গেলেন। বলা হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা গেছেন। এখন আসলেই এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু সেটি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আদালত দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ হাজির হতে আদেশ দিয়েছেন।’
