ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে রিট

শুনানির জন্য দুই সপ্তাহের সময় চাইল রাষ্ট্রপক্ষ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২১, ০১:৫৯ এএম

নাগরিকের ফোনালাপে আড়ি পাতা রোধে নিশ্চয়তা ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনাগুলোর তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে করা রিট আবেদনের শুনানি পিছিয়েছে। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে শুনানির ধার্য দিনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দুই সপ্তাহের সময়ের আবেদন করা হলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি দুই সপ্তাহ পেছানোর এ আদেশ দেয়। ভার্চুয়ালি রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিপুল বাগমার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ রিট আবেদনের সঙ্গে আজ (গতকাল) সকালে এক হাজার পৃষ্ঠার বেশি নথি পেয়েছি। এগুলো দেখতে হবে, পড়তে হবে। এজন্য সময় চাইলে আদালত দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছেন।’

ফোনে আড়ি পাতা বন্ধ ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ১০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবীর পক্ষে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়। আবেদনে ফোনে আড়িপাতা রোধে বিটিআরসির (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে নাÑ এ মর্মে রুলের আর্জির পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা বন্ধে বিটিআরসিকে নিশ্চয়তা প্রদান করতে তাদের প্রতি নির্দেশের আর্জি জানানো হয়। 

আবেদনের বরাতে অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানান, ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ২০টি আড়ি পাতা ও ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনার আবেদনে উল্লেখ করা হয় যাদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন। আবেদনের বরাতে আইনজীবী জানান, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। এই অধিকার সংবিধান কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, সংবিধানের তৃতীয়ভাগে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ অন্যতম। তিনি বলেন, ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অ্যাক্ট-২০০১ প্রণয়ন করা হয়। আইনের ৩০ (চ) ধারা অনুযায়ী টেলিযোগাযোগের একান্ততা রক্ষা নিশ্চিত করা এই কমিশনের দায়িত্ব। কিন্তু এ ধরনের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা অহরহ ঘটছে। অথচ সংবিধান ও প্রচলিত আইনানুযায়ী কমিশনের দায়িত্ব হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ। এর আগে টেলিফোনে আড়ি পাতা রোধে গত ২২ জুন এক আইনি নোটিসে বিটিআরসির (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) গৃহীত পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত