বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানসহ বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যান্য কুশীলবদের মুখোশ ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে। সেই পূর্ণ ইতিহাস প্রকাশ পেলে বিএনপির নেতাকর্মীরাও লজ্জিত হবেন।’
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএফডিসি শ্যুটিং ফ্লোরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সমিতিসমূহ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যখন ইতিহাস পরিপূর্ণভাবে উন্মোচিত হবে জিয়াউর রহমান কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে বর্ণচোরা ভূমিকা পালন করেছিল, কীভাবে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের উৎসাহ দিয়েছিল এবং পরে পুনর্বাসন করেছিল, সেই সত্যগুলো যখন ক্রমাগতভাবে প্রকাশ পাচ্ছে এবং যখন আরও প্রকাশিত হবে, তখন যারা জিয়াউর রহমানের দল করেন, তারা লজ্জা পাবেন।’
‘জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হয়ে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে আর তার স্ত্রী-পুত্রদের পাকিস্তানি আর্মি একেবারে আদর যত্ন করে ক্যান্টনমেন্টে রাখে, এটি কখনো সম্ভব নয়’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এতে এবং জিয়ার কাছে লেখা কর্নেল বেগের চিঠিতেই প্রমাণিত হয় মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকাটা কী ছিল।’
বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্প আজকে নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এটি সঠিক, কিন্তু এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমরা ইতিমধ্যেই অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। চলচ্চিত্র শিল্পীদের বহুদিনের দাবি প্রধানমন্ত্রী পূরণ করেছেন। চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সিনেমা হল পুনর্নির্মাণ, বন্ধ হল চালু করা ও নতুন হল নির্মাণের জন্য এক হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠিত হয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধি এবং হল মালিক, প্রযোজকসহ আরও যাদের প্রয়োজন, তাদের ডেকে একটি বৈঠক করব যাতে এই খাত থেকে সবাই খুব সহসা উপকার পায়।’
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর আসল খুনি। তার মরণোত্তর বিচার করতে হবে।’
বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, সাধারণ সম্পাদক শাহিন সুমন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান প্রমুখ।
