সাংবাদিককে ‘খুন-গুমের হুমকি’

টাঙ্গাইলে এমপি হাছান ইমামের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২১, ০১:৪৫ এএম

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক সাংবাদিককে হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীসহ সাতজনকে আসামি করে আদালতে এ মামলা করা হয়। কালিহাতী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ‘দৈনিক জবাবদিহি প্রতিকার’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি রশিদ আহাম্মদ আব্বাসী (৫৫) হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নুশরাত জাহান মামলাটি তদন্তের জন্য কালিহাতী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সাংসদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী সাংবাদিক রশিদ আব্বাসীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাগবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া গ্রামের মো. আবদুল মজিদ তোতা (৬৫), মো. দুলাল হোসেন (৫০), আউলিয়াবাদ গ্রামের মো. ফজলুল হক (২৪), মো. আবদুল কাদের (৫৫), বাংড়া গ্রামের প্লাবন (২৫) ও ধুবুলিয়া পাথালিয়া গ্রামের মো. শাহ জালাল ওরফে জামাল (৪০)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ জুলাই দুপুরে সাংসদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী সাংবাদিক রশিদ আব্বাসীকে ফোন করে তার বাসায় (এমপির বাসা) যেতে বলেন। পরে রশিদ আব্বাসী ওই বাসায় গেলে এমপি তাকে ‘খুন করে লাশ গুম’ করার হুকুম দেন তার লোকজনকে। এ সময় আসামিরা তাকে এমপির বাসা থেকে তুলে নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তখন আসামিরা সাংবাদিক রশিদকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। তা না হলে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুম করা হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়।

হুমকি ও মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক রশিদ আব্বাসী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমপি হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী ফোন করে আমাকে ডেকে তার বাসায় নেন। বাসায় গেলে এমপি তার সাঙ্গপাঙ্গদের হুকুম দেন আমাকে হত্যা করে লাশ গুমের। একপর্যায়ে আমাকে বাসা থেকে বের করে রাস্তায় নিয়ে যায়। এ সময় ডাক-চিৎকারে অন্যান্য লোকজন এগিয়ে এলে আমাকে রেখে তারা চলে যায়। আমাকে তারা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে।’

ঘটনার দিনই কালিহাতী থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি জানিয়ে রশিদ আব্বাসী বলেন, ‘পরদিন ২৬ জুলাই আমি পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করি। এরপর ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ, আইজিপি, পুলিশ সদর দপ্তর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন দিই। আবেদন জমা দেওয়ার পর বেশ কয়েক দিন অতিবাহিত হয়ে যায়। এরপর বাধ্য হয়েই আমি আদালতের শরণাপন্ন হই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাংবাদিক। বিভিন্ন সময় অনেকের বিরুদ্ধে নিউজ প্রকাশ হয়। হয়তো কোনো নিউজের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।’

সাংবাদিক রশিদ আব্বাসীর মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কালিহাতী থানার ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। এখনো আদালত থেকে কোনো চিঠি আমি হাতে পাইনি।’

এদিকে রশিদ আব্বাসীকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করছেন সাংসদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন তার (রশিদ আব্বাসী) কাছে টাকা পায়। সেই টাকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। তারা আমার কাছে অভিযোগ দিলে আমি বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে বলেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত