আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৮ কোটি মানুষকে করোনা টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ জন্য প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব টিকা দেশে চলে আসার কথা রয়েছে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবে আমরা ভ্যাকসিনের অর্ডার দিয়েছি ও বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা যেভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেসব প্রতিশ্রুতি রক্ষা হলে ভবিষ্যতে দেশে ভ্যাকসিনের খুব একটা অভাব থাকবে না। আমরা যদি ১৬ কোটি টিকা পেয়ে যাই, তাহলে ৮ কোটি লোককে টিকা দিতে পারব। এই টিকাগুলো ডিসেম্বরের মধ্যেই আসার কথা। আমরা মনে করি, আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশের সাত থেকে আট কোটি লোককে টিকা দিতে পারব।’
যেসব উৎস থেকে টিকা আসছে : বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা আসার তথ্য জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রস্তাব অনুযায়ী, চীনের সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক মিলে মোট সাড়ে ১০ কোটি টিকা কেনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে এই টিকা ভর্তুকি রেটে কম দামে কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সিনোফার্মের ৩ কোটি এবং সাড়ে ৭ কোটি সিনোভ্যাক রয়েছে। এই সাড়ে ১০ কোটি টিকা কেনার অর্ডার হয়ে গেছে। এর বাইরে কোভ্যাক্সের (টিকার বৈশি^ক উদ্যোগ) আওতায় আরও ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে। এ প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে করোনার সংক্রমণ কমে আসছে, দৈনিক মৃত্যুও কমেছে। টিকা কার্যক্রম শহরে বেশি চলছে। গত পরশু (শনিবার) অ্যাস্ট্রাজেনেকার আরও টিকা আমরা পেয়েছি। সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফাইজারের ৬০ লাখ টিকা পাব। এ মাসের শেষে চীনের সিনোফার্ম আরও ১০ লাখ টিকা আসা নিশ্চিত করেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে সিনোফার্মের আরও টিকা পাব।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৫ দিনে টিকার ব্যাপারে অনেক কাজ করা হয়েছে এবং অনেক টিকার অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চীনে নতুন ৬ কোটি ডোজের অর্ডারসহ মোট সাড়ে ৭ কোটি অর্ডার দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আমাদের বলা হয়েছে, কোভ্যাক্স থেকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া শেষ হলে পরে বাকি টিকা কিনে নিতে হবে এবং তাদের কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গণটিকা আর নয় : সম্প্রতি শেষ হওয়া ছয় দিনের বিশেষ কর্মসূচির মতো গণটিকাদান কর্মসূচি আর হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে গণটিকা কার্যক্রম আমরা করছি না। এ ধরনের কর্মসূচি চালানোর মতো টিকা আমাদের হাতে নেই। আগামীতে আমরা গণ কথাটাও ব্যবহার করব না। আমাদের কাছে যখন যতটুকু টিকা আসবে এবং সেই টিকা যতগুলো লোককে দিতে পারব, সেই পরিমাণ লোককেই আমরা ডাকব। যাদের কাছে খুদেবার্তা যাবে তারাই টিকা পাবেন।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণটিকা দেওয়ার সময় লম্বা লাইন আমরা না চাইতেও হয়েছে। আমেরিকার টিকা হোক আর চীনের হোক, টিকার কাজ সবগুলোই ভালো। তাই হুড়োহুড়ি করে টিকা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।’
দুই ডোজের ব্যবধান কমানোর বিষয়ে ভাবা হচ্ছে : বর্তমানে দেশে সিনোফার্ম, মডার্না ও ফাইজারের টিকার দুই ডোজ দেওয়া হচ্ছে এক মাস বা চার সপ্তাহের ব্যবধানে ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা দুই মাস বা আট সপ্তাহের ব্যবধানে। এই ব্যবধান কমিয়ে আনা যায় কি না, প্রধানমন্ত্রী তা দেখতে বলেছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনার টিকার প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজের সময় ১৫ বা ২০ দিন করা যায় কি না, প্রধানমন্ত্রী তা দেখতে বলেছেন। যদি সম্ভব হয়, সেটা করা হবে। বিভিন্ন দেশে ১৫ দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে। এখন কারিগরি কমিটি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আলাপ করে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা টিকাপ্রাপ্তি সাপেক্ষে।
সব শ্রমিককে টিকা দেওয়া হবে : গতকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকে শ্রমিকদের টিকা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা ফ্রন্টলাইনারদের টিকা দিচ্ছি। সব কারখানার শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়া হবে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি মানুষ ভ্যাকসিন পাক এবং সুরক্ষিত থাকুক।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন যারা নিয়েছে, তারা খুব কমই মারা গেছে। বিনোদনের জায়গাসহ সব খুলে দেওয়া হয়েছে, সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেদের সুরক্ষিত রাখবেন এবং অবশ্যই মাস্ক পরবেন।
