পদ্মা সেতুতে বসল শেষ স্ল্যাব, পূর্ণাঙ্গ অবয়বে সড়কপথ

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২১, ০২:৫৩ এএম

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণে আরও একধাপ অগ্রগতি হয়েছে। নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে থাকা সেতুটির সবগুলো রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে মূল সেতুর মোট ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের সর্বশেষটি বসানো হয়। এখন পিচ ঢালাই হয়ে গেলেই ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুর সড়কপথ যান চলাচলের উপযোগী হয়ে যাবে।

সেতুর বুকে সবগুলো রোডওয়ে স্ল্যাব বসাতে সময় লেগেছে প্রায় ৩ বছর ৫ মাস। গতকাল সর্বশেষ রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো শেষ হলে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। একে স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন তারা। সর্বশেষ রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর সময় পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অন্য প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, পদ্মা সেতুর বুকে ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ প্রথম প্রি-কাস্ট রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়। এরপর সেতুর বুকে একের পর এক রোডওয়ে স্ল্যাব বসতে থাকে। গতকাল সর্বশেষ রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর মধ্য দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ বছরের মধ্যেই সবগুলো রোডওয়ে স্ল্যাব বসাতে সক্ষম হলেন প্রকৌশলীরা। তবে এই মুহূর্তে চাইলেই সেতুর বুক হয়ে নদীর এপার-ওপার যানবাহন চলাচল সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সবগুলো রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন হলেও সেতুর বুকে ৮টি স্থানে ফাঁকা রয়েছে। ৭টি মডিউলের প্রতিটির দুই প্রান্তেই ফাঁকা রয়েছে। সেখানে শাটারিং করে অনস্পট ঢালাই সম্পন্ন করতে হবে। স্প্যানগুলোর (ট্রাস) মধ্যে একদিকে জোড়া লাগানো হচ্ছে। অন্যদিকে মডিউলের ফাঁকা জায়গায় সø্যাব কাস্টিং করা হবে। ১৪টি স্ল্যাব কাস্টিংয়ের মধ্যে একটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে আরও ১৩টি। সব রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো শেষ হলেও মডিউলগুলোর সংযোগস্থলে অনস্পট স্ল্যাব কাস্টিং শেষ হলেই যানবাহন চলাচল করতে পারবে।’

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় সেতুর অবকাঠামো। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছিল ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। একই সঙ্গে চলতে থাকে রোডওয়ে ও রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোসহ অন্যান্য কাজ। ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যেই এই সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত এই মেগা প্রকল্পের সার্বিক কাজ এগিয়েছে ৮৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৯০ দশমিক ১৮ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত