দুই বছর ধরে ই-কমার্স খাতে নৈরাজ্য বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা, আলিশা মার্টসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করার খবর গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে। সম্ভাবনাময় এ খাতে নৈরাজ্যের দায় এসব প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বদাতা প্রতিষ্ঠান ই-ক্যাব এড়াতে পারে না। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ দাবি করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।
বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে ই-কমার্স খাতে বার্ষিক লেনদেন হচ্ছে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার। এফ-কমার্সে গত বছর লেনদেন হয় ৩২০ কোটি ডলারের মতো। বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় এ খাতের নেতৃত্বদাতরা কেবল মন্ত্রণালয়ে তদবিরে ব্যস্ত। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ই-কমার্স এরই মধ্যে সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা সহায়তা নিয়েছে। এছাড়া এ সংগঠনের সদস্য হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম দেখেই তারা সদস্য মনোনীত করেন। কিন্তু এমএলএম কোম্পানিগুলোকে তারা কীভাবে সদস্য হিসেবে নিলেন- প্রশ্ন সংগঠনটির।
তারা মনে করেন, অনৈতিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধ ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে গ্রাহকদের ন্যায্য দাবি পরিশোধের ব্যবস্থা করা ছাড়া কর্তাব্যক্তিরা দায় এড়াতে পারেন না। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ই-কমার্সে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের কর্মকান্ড ও দায়দায়িত্ব কতটুকু তা জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। গ্রাহকদের প্রাপ্য দাবি প্রয়োজনে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে পরিশোধ করা হোক। আগামীতে বড় বিনিয়োগকারীরা এ খাতে আগ্রহী হবেন। তখন এ ধরনের নৈরাজ্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ব্যাপারে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন নেতারা।
