ইভ্যালির ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ০১:৪১ এএম

ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) নামে পরিচালিত সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও ৫০ লাখ বা তার বেশি টাকা লেনদেনের চেক ও রসিদের কপি চেয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। গত বুধবার বিএফআইইউ থেকে ব্যাংকগুলোকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

বিএফআইইউ চিঠিতে বলা হয়েছে, ইভ্যালি ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে পরিচালিত সব ধরনের অ্যাকাউন্টের তথ্য পাঠাতে হবে। এছাড়া ২০২০ সাল থেকে তাদের হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী, ৫০ লাখ বা তারচেয়ে বেশি টাকা জমা ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে জমা রসিদ বা চেকের কপি (ওয়াক-ইন কাস্টমারের ছবিযুক্ত আইডিসহ) পাঠাতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি এসব হিসাবের নমিনির তথ্য ও নমিনিদের নামে কোনো ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হলে সে সবের তথ্যও দিতে বলা হয়েছে। তাদের নামে এফডিআর, ঋণ হিসাব, এলসি থাকলে সব ধরনের কাগজপত্রসহ তথ্য দিতে হবে। হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি প্রোফাইল, টিপি ও সংশ্লিষ্ট সব ধরনের দলিল পাঠাতে হবে।

এরই মধ্যে প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে মামলা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বাসিন্দা মো. রাজ বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আরার আদালতে এ মামলা করেন।

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালি ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে। অস্বাভাবিক ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাকের অফার দিয়ে স্বল্প সময়ে অনলাইন বেচাকেনায় আলোচনার শীর্ষে চলে আসে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই মডেলের ই-কমার্স ব্যবসা ঝুঁকি তৈরি করছে এমন খবর পত্রিকায় বের হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের আগস্টে ইভ্যালি এবং এর চেয়ারম্যান ও এমডির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন এক মাসের জন্য স্থগিত করেছিল। এরপর ইভ্যালির ওপর একটি পরিদর্শনও পরিচালনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, সম্পদের চেয়ে ছয় গুণ বেশি দেনা ইভ্যালির।

গত ১৯ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সম্পদ ও দায়ের হিসাব দিয়েছে ইভ্যালি। এতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তার নিজের ব্র্যান্ডমূল্য ৪২৩ কোটি টাকা।

গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত তাদের মোট দায় ৫৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি টাকা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি মোহাম্মদ রাসেল কোম্পানিকে দিয়েছেন। বাকি ৫৪৩ কোটি টাকা হচ্ছে কোম্পানিটির চলতি দায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত