১৫, ৯, ৩ ও ২৪; অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গত সিরিজের চার ম্যাচে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির রান। সৌম্য সরকারের ব্যর্থতায় সিরিজের শেষ ম্যাচে জুটিতে বদল আনতে হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলে ফিরেছেন লিটন দাশ। নাঈম শেখ ও সৌম্যর সঙ্গে এখন দলে তিন ওপেনার। ওপেনিংয়ে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তবুও গত সিরিজের ব্যর্থতা ঢাকবে কি? ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স আশাবাদী। ওপেনিং নিয়ে একদমই ভাবছেন না তিনি। তার বিশ্বাস উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এবার ভালো করবেন ওপেনাররা। তাছাড়া পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়া প্রিন্স দলের অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশ্রণে মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান।
একদিন পর কোয়ারেন্টাইন পর্ব শেষ হওয়ায় গতকাল দলের সঙ্গে অনুশীলনে এসেছেন সাকিব আল হাসান। এদিন প্রথম দিনের মতো কোচদের সঙ্গে আলাদা সেশন ছিল না ক্রিকেটারদের। স্বাভাবিক নিয়মে অনুশীলন সেশন শেষে আসন্ন সিরিজ নিয়ে নিজের ভাবনা জানান দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটিং কোচ। তার মতে অস্ট্রেলিয়ার মতো নিউজিল্যান্ডকে হারানো সহজ হবে না। কিউইরা খুব ধৈর্যশীল দল এবং তারা সব দিক থেকে পরিকল্পনা করেই নামবে, ‘আমার মনে হয় নিউজিল্যান্ড এই কন্ডিশনকে খুব ভালোভাবে বিশ্লেষণ করবে, সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করবে এবং সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে তারা শিক্ষা হিসেবে নেবে। নিউজিল্যান্ড খুব ধৈর্যশীল দল, তারা অবশ্যই আমাদের ব্যাটসম্যান এবং বোলারদের নিয়ে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করবে এবং পিচ ও কন্ডিশন নিয়েও। তারা খুবই ধৈর্যশীল দল, তারা সবরকম তথ্য কাজে লাগানোর মতো স্মার্ট দল।’
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটির ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রিন্স। তার মতে কন্ডিশনের ভিন্নতার জন্যই এমনটা হয়েছে। ব্যাটিংয়ে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ। জিম্বাবুয়েতে পিচে বাউন্স ছিল। বল সহজে ব্যাটে আসায় ব্যাটসম্যানদের জন্য মানিয়ে নেওয়াও সহজ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে নিচু বাউন্স থাকায় দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেননি সৌম্য ও নাঈম। তবে প্রিন্স আত্মবিশ্বাসী গত সিরিজ থেকে পাওয়া শিক্ষা এই সিরিজে কাজে লাগাবেন। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে আলোচনাও হয়েছে বলে জানান, ‘ব্যক্তিগতভাবে ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের নিয়ে আমি চিন্তিত নই। জিম্বাবুয়েতে আমরা এক-দুটো ভালো জুটি পেয়েছি। অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গত সিরিজটায় কন্ডিশন কঠিন ছিল। সহজে বল ব্যাটে আসে এমন পিচে যত সহজে বাউন্ডারি মারা যায় সে রকম পিচ ছিল না। এমন জায়গায় মানিয়ে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ, জুটিটাও গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ড সিরিজে আমরা একই রকম কন্ডিশন পেতে যাচ্ছি। এখানে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে আমরা কী শিখেছি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হবে, আমরা গতকাল খুব ভালো আলোচনা করেছি। যারা অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলেছে তারা লিটন, মুশফিকদের জানিয়েছে পিচ কী আচরণ করতে পারে। তো এরা এমন কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত আছে, আমরা ওই সিরিজ থেকে কী নিয়ে আসতে চাই এবং এই সিরিজে কী-কী বিষয়ে উন্নতি করতে চাই সে ব্যাপারে আলোচনা করেছি।’
বাংলাদেশ দলের বৈচিত্র্যে মুগ্ধ প্রিন্স। সাবেক প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান দলে অভিজ্ঞদের সঙ্গে তারুণ্যের মিশেলটা উপভোগ করছেন। তরুণরা যে শুধু শিখছে এমন না, তারাও দলে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে বলে জানান। তাদের যুব বিশ্বকাপ জয়টাই দলে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার সবচেয়ে বড় দিক বলে মনে করেন প্রিন্স, ‘বাংলাদেশ দলের যে জিনিসটা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে তা হলো অভিজ্ঞতা ও তরুণ ক্রিকেটারদের মিশ্রণ। শুধু ব্যাটিং বিভাগে না, বোলিংয়েও, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী বেশ ক’জন তরুণ এসেছে যারা দলে নিজেদের প্রয়োজনীয়তা মেলে ধরেছে। তাছাড়া বড় টুর্নামেন্টে সফল হওয়ার অভিজ্ঞতাটাও তারা নিয়ে এসেছে। তো তিন বিভাগেই অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয়তা এবং গুণের দিক থেকে দারুণ মিশ্রণ আছে।’
