করোনা মহামারীর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে গত বছরের মতো এ বছরও ঋণ পরিশোধে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ঋণগ্রহীতাদের বকেয়া ঋণের ২৫ শতাংশ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। তবে সার্কুলারটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় গত শুক্রবার।
সার্কুলারে বলা হয়, কভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের নেতিবাচক প্রভাব প্রলম্বিত হওয়ায় চলমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বজায় রাখা এবং বেসরকারি খাতে ঋণ বা বিনিয়োগ প্রবাহের গতিধারা স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাণিজ্য সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের প্রদেয় কিস্তির ন্যূনতম ২৫ শতাংশ পরিশোধ করা হলে ওই ঋণটিকে খেলাপি করতে পারবে না ব্যাংক। ঋণের বাকি ৭৫ শতাংশ পরবর্তী এক বছর, অর্থাৎ ২০২২ সালের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে।
এর আগে ২০২০ সাল জুড়েও ঋণ শোধ না করেও খেলাপি হননি ব্যবসায়ীরা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই ছাড় তুলে নেওয়া হলে খেলাপি ঋণ ব্যাপকভাবে বাড়ে। এ রকম পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ জুন ঋণ পরিশোধে কিছুটা ছাড় দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন বলা হয়েছিল গত জুন পর্যন্ত সময়ের বকেয়া কিস্তির ২০ শতাংশ আগস্ট মাসের মধ্যে পরিশোধ করলে ঋণটি খেলাপি হবে না।
তবে অনেক ঋণগ্রহীতা এই শর্ত মেনে ঋণটি খেলাপিমুক্ত রাখতে পারেননি। ফলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ১৬৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। মার্চ শেষে যা ছিল ৯৪ হাজার ২৬৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৮৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকা।
এ কারণে বিতরণ করা ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের হার কিছুটা বেড়েছে। গত জুন শেষে বিতরণ করা ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের হার ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। গত মার্চে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ।
এমন পরিস্থিতিতে এবার ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে আবারও নতুন নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আগের নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণের বিপরীতে ইতিমধ্যে আদায়কৃত অর্থ এ সার্কুলারের নির্দেশনা পরিপালনের ক্ষেত্রেও আদায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণের ওপর আরোপিত সুদ আয় খাতে স্থানান্তরকরণ এবং ওই ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করে তা অবিলম্বে কার্যকর করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
