মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস নগদ ৫১০ কোটি টাকার জিরো কুপন বন্ডের অনুমোদন পেয়েছে। গত রবিবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত কমিশন সভায় শর্তসাপেক্ষে নগদকে এই বন্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বন্ড অনুমোদনের শর্ত হিসেবে নগদকে ট্রাস্ট ডিড রেজিস্ট্রেশন, পরিচালকদের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর ছাড়পত্র এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র এসইসিতে জমা দিতে হবে। এসইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগদ অভিহিত মূল্যে ৭৫০ কোটি টাকার জিরো কুপন বন্ডের আবেদন জানায়। এই জিরো কুপন বন্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং কুপন রেট ১০ শতাংশ পর্যন্ত। বন্ডটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হস্তান্তরযোগ্য, অবসায়নযোগ্য ও অরূপান্তরযোগ্য।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ও দি থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিসের যৌথ মালিকানায় ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে নগদ। চলতি বছরের ১ জুলাই নগদের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। বর্তমানে ৫ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি গ্রাহক রয়েছে নগদের।
সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তহবিল সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজারে বন্ড ছেড়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা ধার করে। বিনিময়ে কোনো বন্ডে মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় পর পর সুদ দেওয়া হয়, যেগুলোকে নিয়মিত বন্ড বলা হয়। আর কোনোটিতে সুদ না দিয়ে অভিহিত মূল্যের ওপর ডিসকাউন্ট বা ছাড়ে বিক্রি করা হয় এবং মেয়াদ শেষে পুরো অভিহিত মূল্য ফেরত দেওয়া হয়। এগুলোকে জিরো কুপন বন্ড বলা হয়।
সম্প্রতি নগদসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট এক রোড-শো করে এসইসি। ওই রোড-শোতে জিরো কুপন বন্ড ছাড়ার ঘোষণা দেয় নগদ। দেশের যেকোনো মোবাইল বা ডিজিটাল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস কোম্পানির জন্য এটিই হবে প্রথম কোনো বন্ড ছাড়ার ঘটনা। নগদের বন্ডে বিনিয়োগকারীরা পাঁচ বছর পর বিনিয়োগের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ মুনাফা পাবেন। এসইসির ওই রোড-শোতে কিউ গ্লোবাল লিমিটেড নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডিজিটাল কোম্পানি নগদের এই বন্ডে ৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখিয়েছে।
বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ ‘নগদ’ তাদের ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ, নেটওয়ার্ক তৈরি, কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, আইটি সরঞ্জাম সংগ্রহ, বিপণন ও প্রচারের কাজে খরচ করবে।
রিভারস্টোন ক্যাপিটাল লিমিটেড বন্ডটির অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে গ্রিন ডেল্টা ক্যাপিটাল লিমিটেড ট্রাস্টি’র দায়িত্ব পালন করছে।
