চলে গেলেন বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ। গত রবিবার মধ্যরাতে ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
‘মাধুকরী’ উপন্যাসখ্যাত এই সাহিত্যিক গত এপ্রিল মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে তিনি করোনামুক্ত হয়ে বাসায় ফেরেন। গত ৩১ জুলাই করোনা-পরবর্তী স্বাস্থ্য-জটিলতা নিয়ে ফের হাসপাতালে ভর্তি হন। রক্তচাপ কমে যাওয়ায় ৩ আগস্ট তাকে হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার পাশাপাশি তার মূত্রনালিতেও সংক্রমণ ধরা পড়ে। লিভার ও কিডনিতে সমস্যা থাকার কথা জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।
বুদ্ধদেব গুহর বড় মেয়ে মালেনি বি গুহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে এক বার্তায় লিখেছেন, ‘বুদ্ধদেব গুহ আর নেই। ২০২১ সালের জন্মাষ্টমীর রাতে ভগবান তাকে ফিরিয়ে নিয়েছেন।’ তার স্ত্রী রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ঋতু গুহ ২০১১ সালে মারা যান।
১৯৩৬ সালের ২৯ জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন বুদ্ধদেব গুহ। তার শৈশব কেটেছে বাংলাদেশের বরিশাল ও রংপুরে। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা পরে তার নানা লেখায় এসেছে। অসাধারণ লেখনী আর নিজস্ব দৃশ্যকল্প দিয়ে সমকালীন বাংলা সাহিত্যে নিজের জায়গা গড়ে নিয়েছিলেন বুদ্ধদেব। তার লেখার একটি বড় এলাকাজুড়ে আছে অরণ্য, প্রকৃতি আর প্রেম।
তার প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ ‘জঙ্গল মহল’। এরপর ‘মাধুকরী’, ‘কোজাগর’, ‘অববাহিকা’, ‘বাবলি’, ‘বাসনাকুসুম’, ‘পরিযায়ী’, ‘হলুদ বসন্ত’, ‘খেলা ঘর’, ‘নগ্ন নির্জন’, ‘জলছবি’র মতো বহু উপন্যাস তিনি উপহার দিয়েছেন পাঠকদের। পাশাপাশি কিশোর সাহিত্যেও ছিল অবাধ বিচরণ। বহু কিশোর-কিশোরীর কাছে এখনো প্রিয় তার সৃষ্ট ‘ঋজুদা’ বা ‘ঋভু’ চরিত্র। আনন্দ পুরস্কারসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বুদ্ধদেব গুহ। তার লেখা ‘বাবা হওয়া’ এবং ‘স্বামী হওয়া’কে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে পুরস্কারজয়ী বাংলা সিনেমা ‘ডিকশনারি’। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে লেখাপড়া করা বুদ্ধদেব গুহ পেশায় ছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ধ্রুপদী সংগীত আর ছবি আঁকাতেও তার দক্ষতা ছিল।
