অনেকটা ২০১১ বিশ্বকাপের দল ঘোষণার মতো আবহ ফিরে এলো যেন। পুরো দেশ জানে বা চাইছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ওই বিশ্বকাপের দলে থাকবেন বা আছেন। কিন্তু দল ঘোষণায় দেখা গেল মাশরাফী নেই। দেশের মাটিতে হওয়া ওই বিশ্বকাপে খেলতে না পারার আক্ষেপে তখন অশ্রু ঝরছে মাশরাফীর। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি ফিট হয়ে না ওঠায় সেবার বাদ পড়েছিলেন মাশরাফী। গতকাল ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকে তামিম ইকবালের নাম তুলে নেওয়াও কিন্তু ইনজুরি থেকে পুরোপুরি ফিট না হওয়ায়। পার্থক্য এই- মাশরাফী বাদ পড়েছিলেন, তামিম নিজেই সরে দাঁড়ালেন।
কাল পর্যন্ত ঠিক ছিল টি-টোয়েন্টি দলে থাকছেন তামিম। বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন, ক্রিকেট অপারেশন্স প্রধান আকরাম খানসহ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও দ্বিমত করেননি তামিমের দলে থাকা নিয়ে। কিন্তু তামিম ইকবালই নিজের সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দিলেন। বাংলাদেশ ওপেনারের কথায়- ‘দলের প্রয়োজনের সেরা সিদ্ধান্তটাই’ নিয়েছেন। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ প্রস্তুতির অভাব এবং ইনজুরি পরবর্তী পারিপাশির্^কতার কথা মাথায় রেখে বিশ্বকাপ দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তামিম। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজে ভিডিওবার্তায় এ সিদ্ধান্ত জানান তামিম। তবে এটা অবসর নয়। শুধু এই বিশ্বকাপে অনুপস্থিতি।
ভিডিওবার্তায় তামিম বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে বোর্ড প্রেসিডেন্ট (নাজমুল হাসান) পাপন ভাই ও প্রধান নির্বাচক (মিনহাজুল আবেদিন) নান্নু ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি, কিছু জিনিস শেয়ার করেছি। বিষয়টা হলো, আমার মনে হয় না যে আমার বিশ্বকাপ দলে থাকা উচিত। তাই বিশ্বকাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। এটার দুই-তিনটি কারণ আছে। আমার কাছে মনে হয় যে, গেম টাইম একটা বড় কারণ। আমি বেশ কয়েকদিন ধরে খেলছি না এই ফরম্যাটটা। দ্বিতীয়ত, ইনজুরি। তবে ইনজুরি আমার মনে হয় না অত বড় সমস্যা। কারণ আমি আশা করি, বিশ্বকাপের আগেই ঠিক হয়ে যাব। তবে মূল যে বিষয়টা আমাকে ভাবিয়েছে, তা হলো... যেহেতু আমি সবশেষ ১৫-১৬টা টি-টোয়েন্টি খেলিনি এবং আমার জায়গায় যারা খেলছিল, আমার কাছে মনে হয় না, এটা তাদের প্রতি ন্যায়বিচার হতো, যদি আমি হঠাৎ করে এসে ওদের জায়গা নিয়ে নিই। তরুণ যারা এখন জাতীয় দলে ওপেন করছে, ওদের সুযোগ পাওয়া উচিত। ওদের প্রস্তুতিও আমার চেয়ে ভালো হবে। পাশাপাশি আমি এটাও মনে করি, তারা দলকে আমার চেয়ে ভালো সার্ভিস দিতে পারবে।’ তবে তামিম পাশাপাশি পরিষ্কার করেছেন এটা টি-টোয়েন্টি থেকে তার অবসরের সিদ্ধান্ত নয়। ‘আরেকবার পরিষ্কার করে দিই, আমি অবসর নিচ্ছি না। কিন্তু সম্ভবত এই বিশ্বকাপটা আমার খেলা হবে না। আমার কাছে মনে হয় যে, এটাই যথাযথ সিদ্ধান্ত। আর এই সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছি, এটাতেই অটল থাকব। এখানে কোনো ধরনের বিতর্ক হওয়ারও সুযোগ নেই। দলের জন্য এটাই ভালো।’
তামিমের এই ঘোষণা এলো তার টি-২০ অভিষেকের দিনই। ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর নাইরোবিতে কেনিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অভিষিক্ত এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৭৮ ম্যাচের ৭৮ ইনিংসে করেছেন ১৭৫৮ রান, যা বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিটি তারই, যা এসেছিল ২০১৬’র বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে। পাশাপাশি ৭ হাফসেঞ্চুরিও রয়েছে। গড় ২৪.০৮। স্ট্রাইকরেট ১১৬। টি-টোয়েন্ট বিশ্বকাপে ২৩ ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১৪ রানও করেছেন তামিম। তার অভিষেকের পর থেকে বাংলাদেশ গতকাল খেলল ১০৭তম টি-টোয়েন্টি। এরমধ্যে তিনি খেলেননি ২৯টি। এর সর্বশেষ ১২টি একটানা মিস করেছেন তিনি। গত বছরের মার্চে মিরপুরে সর্বশেষ টি-২০ খেলেছিলেন তামিম।
তামিমের সাহসী সিদ্ধান্ত : পাপন
তামিম মনে করেছে যে সে খেললে অনেকের প্রতি অন্যায় হতে পারে। এটা একটা কারণ। আর সরাসরি ইনজুরি থেকে ফিরে বিশ্বকাপ খেলা, এটা খুব কঠিন। আজকে যে দলের তালিকাটা আমাকে দিয়েছে (নির্বাচকরা) সেখানেও তামিম ছিল। বিশ্বকাপের পরে আমাদের আরও অনেক খেলা আছে। সামনের বছর আরেকটা বিশ্বকাপ আছে। আমার আশা তামিম আবার টি-টোয়েন্টি দলে ঢুকবে এবং সামনের বিশ্বকাপে খেলবে। সবাই চায় বিশ্বকাপ খেলতে, কিন্তু তামিম সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
