বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু অনেকেই ভুল বুঝে পুঁজিবাজারকে অনুৎপাদনশীল খাত বলে মন্তব্য করে থাকেন। এটি ঠিক নয়। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে কোম্পানিগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে, যা সরাসরি উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হয়। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নতুন ট্রেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসইসি চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান। এতে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, সালমা নাসরীন, ডিবিএ সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন ও ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূইয়া বক্তব্য রাখেন। ডিএসইর গতকালের অনুষ্ঠানে নতুন ৫২টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির হাতে ট্রেক সনদ তুলে দেওয়া হয়।
শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারকে অনেকে ভুল বুঝে অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে বলে থাকেন। সম্ভবত মানুষ দেশের যে সেকেন্ডারি মার্কেট আছে, যেখানে একটা এক্সিট প্ল্যান আছেÑসেটাকে পুঁজিবাজার মনে করেন। আসলে সেকেন্ডারি মার্কেট যেখানে মানুষের হাতে থাকা শেয়ার লেনদেন হয় শুধু, সেটাই কিন্তু পুঁজিবাজার নয়। আমাদের প্রাইমারি মার্কেট আছে, বন্ড মার্কেট আছে। প্রাইমারি মার্কেটের মাধ্যমে উৎপাদনশীল খাতে টাকা দিচ্ছি। বন্ড মার্কেটের মাধ্যমে উৎপাদনশীল খাতে টাকা দিচ্ছি। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে টাকা নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশে এবং দেশের বাইরে ব্যবসা বাড়াচ্ছে। টাকাগুলো তো সব উৎপাদনশীল খাতে যাচ্ছে। তাহলে এখানে অনুৎপাদনশীল কথাটা কেন আসল।
এসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ব্যবসাবান্ধব হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। তবে অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যারা নিয়মকানুন মানতে চায় না। সুশাসনের বাইরে চলে যায় এবং নিজের মতো চলার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, মানুষ কষ্টের যে টাকা আপনাদের (কোম্পানির) কাছে দিয়ে যায়, তা রক্ষা করতে হবে। তবে এই বিনিয়োগের বিপরীতে তাদের যে রিটার্ন বা লভ্যাংশ পাওয়ার অধিকার আছে, তা অনেকে বিশ্বাস করে না। তবে কমিশন এ বিষয়ে কঠোর।
কোনো কোম্পানিতে মানুষ যদি কষ্টের টাকা বিনিয়োগ করার পর কোনো রিটার্ন না পায়, তাহলে কেন তাদের সঞ্চয় ওই কোম্পানিতে দেবে। এটা কিন্তু একটা বেসিক জিনিস। এটা সব কোম্পানি কর্তৃপক্ষকেই বুঝতে হবে। আমরা এখন সব কোম্পানিকে এটা বোঝানোর চেষ্টা করছি। এই রিটার্ন পাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণেই আগে অনেকেই পুঁজিবাজারে আসত না বলে জানান শিবলী রুবাইয়াত। কারণ এখানে টাকা দিয়ে কিছুই পাওয়া যায় না। রিটার্ন তো পায় না, আসলও পায় না। এতে যেটা হয়, সেই মার্কেট ছোট হয়ে যায় এবং মরে যায়।
তাই এ বিষয়ে কমিশনকে কঠোর থাকতে হচ্ছে বলে জানান এসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত। যাতে করে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে পারি। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে কেউ কোনো দিন এখানে আসবে না। তাই সবার কাছে অনুরোধ, আপনাদের ওপর বিশ্বাস করে যারা তাদের কষ্টের সঞ্চয় দিয়ে যাচ্ছে, তাদের সম্মান করবেন এবং তাদের সম্পদ সুরক্ষা ও রিটার্ন দেবেন। কারণ এটি একটি পরিবারের জন্য খুবই দরকারি।
এসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আজকে (শনিবার) সনদ প্রদানের মাধ্যমে ৫২টি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, যা পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করবে। এই নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি অনেকটা একটি পরিবারে নতুন সদস্যের আগমনের মতো খুশির খবর।
শিবলী রুবাইয়াত বলেন, রেমিট্যান্সের টাকা দেশের কোনায় কোনায় পড়ে আছে, যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চায়। তবে আমরা যদি সুশাসনের মাধ্যমে রিটার্ন নিশ্চিত করতে পারি। তখন সমস্ত টাকা পুঁজিবাজারে চলে আসবে। এতে করে পুঁজিবাজার হবে অনেক বড় এবং অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠবে।
নতুন ট্রেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, আমার ধারণা আগামী বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হবে। আর সূচক কোনো ব্যাপার না। এটি ১০ হাজার উঠবে, ১৫ হাজার উঠবে, ২০ হাজার উঠবে। সূচক কোনো বিষয় না। এটি শুধু শেয়ার দরকে ইঙ্গিত করে। শেয়ারের দাম বাড়লে, সূচক বাড়বে। পুঁজিবাজার টিকে যাবে বলে নিশ্চয়তা দিয়ে রকিবুর রহমান বলেন, কিছু সংশোধন হবে। তবে মৌলিক শেয়ারে বিনিয়োগ শুরু হওয়ায় পুঁজিবাজার পড়বে না।
