ওয়েবিনারে বক্তারা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন জরুরি

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০২ এএম

চলমান করোনা এবং আসন্ন তামাক মহামারীর ঘেরাটোপে জনস্বাস্থ্য। শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনই পারে জনস্বাস্থ্যকে কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করতে। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে এমনটাই সুপারিশ করেছেন সংসদ সদস্য, অর্থনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ। তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সআত্মা’র যৌথ উদ্যোগে ‘কভিড-১৯ ও শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োজনীয়তা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এই সুপারিশ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ‘তামাক মৃত্যু ঘটায় এবং কভিড-১৯ সংক্রমণ সহায়ক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী তামাক ব্যবহারের ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া এবং কভিড-১৯  সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। বর্তমানে দেশের প্রায় ৪ কোটি তামাক ব্যবহারকারী মারাত্মকভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি যুগোপযোগী করা এখন সময়ের দাবি।’

ওয়েবিনারে প্রজ্ঞা এবং আত্মা’র পক্ষ থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যেসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয় সেগুলো হলো ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ বিলুপ্তসহ সকল পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি’ বা সিএসআর কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা এবং প্যাকেটবিহীন জর্দা-গুল বিক্রয় নিষিদ্ধ করা এবং ই-সিগারেট এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসসহ (এইচটিপি) সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস আমদানি ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করাসহ সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার বৃদ্ধিসহ তামাকপণ্য মোড়কজাতকরণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা। এ ছাড়া মূল উপস্থাপনায় বলা হয়, কভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঝুঁকি থেকে জনসাধারণকে রক্ষার্থে প্যারাগুয়ে সম্প্রতি সব আচ্ছাদিত পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান শতভাগ নিষিদ্ধ করেছে।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী জানান, সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে তিনি একমত। এগুলো তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে জরুরি। তিনি বলেন, ‘সংশোধনীর সুযোগ যেহেতু এসেছে আমরা যদি আইনটির শিরোনামে নিয়ন্ত্রণের স্থলে নির্মূল কথাটি সন্নিবেশ করতে পারি তাহলে প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত বাংলাদেশ ঘোষণার সঙ্গে অধিকতর সংগতিপূর্ণ হবে।

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী ও অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার বলেন, ‘আইন সংশোধনের যে ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে এগুলো সমন্বিত করেই আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি সবগুলো প্রস্তাব নিয়েই আইনটি সংশোধন হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত