সিরিজ জয়ের অপেক্ষা বাড়ল

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৫ এএম

টস হেরে বোলিং পাওয়া মাহমুদউল্লাহ নিউজিল্যান্ডকে ১৩০-১৪০ রানে বেঁধে ফেলতে চেয়েছিলেন। বোলাররা তার প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে করতে পারে ১২৮। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা অধিনায়কের প্রত্যাশা পূরণ করলেন কই। স্পিন উইকেটের ঘূর্ণিপাকে পড়ে এবার বাংলাদেশ-ই কুপোকাত।

মিরপুরে লো স্কোরিংয়ের ধারায় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের পর তালিকায় বাংলাদেশ নিজেদের যোগ করে নিল ৭৬ রানে অলআউট হয়ে। তাতে অল্পের জন্য টি-টোয়েন্টিতে দলীয় সর্বনিম্ন ৭০ রানের লজ্জা এড়ানো গেছে। কিন্তু দ্বিতীয় সারির নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫২ রানের হার এড়ানো যায়নি। তাই সিরিজ জয়ের প্রত্যাশার প্রহর বেড়েছে স্বাগতিকদের। ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয় ৬৬ রানের একটি জুটি। অথচ ১০.৫ ওভারে  ৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল নিউজিল্যান্ড। তখনও বাংলাদেশের হাতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। মোড় ঘুরিয়ে দেন হেনরি নিকোলস ও টম ব্লান্ডেল। পরের ৯ ওভারে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন দুজনে। গড়েন ৬২ রানের জুটি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শেষ ৫ ওভারে ৪৬ রান যোগ করেন দুজনে। এখানেই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। নিকোলস ২৯ বলে ৩৬ ও ব্লান্ডেল ৩০ বলে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন।

শেষের মতো শুরুটাও ভালো করেছিল কিউইরা। করোনা নেগেটিভ হয়ে এই দলের নিয়মিত ওপেনার গতকালই ফেরেন একাদশে। তার ব্যাটেই ২ ওভারে ১৬ তুলে উড়ন্ত সূচনা পায় সফরকারীরা। অ্যালেন ৩ চারে ১৫ রান করে ফেলেছেন ১০ বলে। মোস্তাফিজ আক্রমণে এসে প্রথম বলেই অ্যালেনকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বটে। রাচিন রবীন্দ্র ২০ বলে ২০ ও উইল ইয়ং ২০ বলে ২০ করলেও ৬২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে প্রথম ১০ ওভারে ম্যাচের দাপট বাংলাদেশের হাতেই ছিল। জয় না পাওয়ার দিনে সাকিব আল হাসানকেও না পাওয়ার বেদনায় পুড়তে হয়েছে। উইকেটশূন্য থাকায় টি-টোয়েন্টি সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বা একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ১২ হাজার রান এবং ৬০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া হলো না সাকিবের।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল গত ম্যাচের মতো। লিটন দাশ ও নাঈম শেখ যেভাবে শুরু করেন তাতে আরেকটি সহজ জয়ের প্রতীক্ষা ছিল সবার। ৩ ওভারের মধ্যে ২৩ রান বোর্ডে। নাঈম পেসার ডাফিকে টানা দুই চারে ১৯ বলে ১৩ ও লিটন স্পিনার ম্যাককঞ্চিকে টানা দুই চারে ১১ বলে ১৫ তোলেন। ভালো ইনিংসগুলো থামে স্পিন বিষেই। নিউজিল্যান্ডের তিন স্পিনার মিলেই এরপর শেষ করে দেন বাংলাদেশের সব সম্ভাবনা। তিনজনে নেন ৭ উইকেট। এর মধ্যে বাঁ-হাতি স্পিনার আজাজ প্যাটেল ছিলেন সেরা। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ১৬ রানে নেন ৪ উইকেট। জোড়ায় জোড়ায় উইকেট নিয়েছেন প্যাটেল। চতুর্থ ওভারে মাহেদী হাসান (১) ও সাকিবকে (০) ফেরান তিন বলের ব্যবধানে। দশম ওভারে শততম ম্যাচ খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ হোসেনকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তোলেন। এছাড়া ৩ উইকেট নেন ম্যাককঞ্চি। বাংলাদেশের ইনিংসে লিটন ও নাঈম ছাড়া মুশফিক ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাকি ব্যাটসম্যানরা মন্থর উইকেটের চরিত্রই ধরতে পারেননি। এমন উইকেটে আগের ইনিংসের নিকোলস-ব্লান্ডেলদের মতোই স্ট্রাইক রোটেট করে খেলতে হয়। নিজেদের ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংসে দুজনই মাত্র ৩টি করে চার মেরেছেন, বাকি সব রানই নিয়েছেন দৌড়ে। আগের ম্যাচে কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামও একই পরিকল্পনায় খেলে হাফসেঞ্চুরি পার করেন। দলকে জিতিয়েই ফেলেছিলেন প্রায়। কিন্তু সাকিব-সোহানরা ছক্কার চেষ্টায় মিস টাইমে ক্যাচ আউট হলেন। আবার সাইফউদ্দিন-আফিফরা বলই পড়তে পারেননি। ফলাফল আগেরজন এলবিডব্লিউ আর পরেরজন বোল্ড।

সিরিজের শুরু থেকেই বলা হচ্ছিল, এই নিউজিল্যান্ড ভালো হোমওয়ার্ক করে। তাই দ্বিতীয় শক্তির দলকেও সমীহ করেছিল বাংলাদেশ। অতিথিরা কতটা হোমওয়ার্ক করেছে তার প্রমাণ গত দুই ম্যাচ। প্রথম ম্যাচের ধাক্কা সামলে শক্তভাবে ফিরে এসেছে তারা পরের দুই ম্যাচে। দ্বিতীয়টিতে না জিতলেও গতকাল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা। বাড়ির কাজটা ঠিকঠাক করে হয়ত সিরিজে আরও সাফল্য আনতে পারে কিউইরা। তাই ঘরের মাঠে নিজেদের হোমওয়ার্কটা ঠিকঠাক করতে হবে মাহমুদউল্লাহদের। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত