আফগান ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে পর্দা টানিয়ে ক্লাস

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫২ এএম

তালেবান ক্ষমতা দখলের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর খুলতে শুরু করেছে আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অনেক জায়গায় শ্রেণিকক্ষের মাঝে পর্দা তুলে কিংবা বোর্ড বসিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আলাদা করা হচ্ছে বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স।

আফগানিস্তানের বড় শহর কাবুল, কান্দাহার এবং হেরাতের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শ্রেণিকক্ষে নারী শিক্ষার্থীদের আলাদা বসতে হচ্ছে, পাঠ দেওয়া হচ্ছে আলাদা এবং তাদের বিচরণ সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট এলাকায়।

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ২১ বছর বয়সী আঞ্জিলা ক্লাসে ফিরে শ্রেণিকক্ষে পর্দা দেখার কথা রয়টার্সকে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা মেনে নেওয়া যায় না। যখন ক্লাসে ঢুকি, আমার তখন ভয় লাগছিল। আমরা ধীরে ধীরে ২০ বছর আগের সময়ে ফিরে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তালেবান আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার আগেও ছাত্র আর ছাত্রীরা ক্লাসে আলাদাই বসতেন। কিন্তু এখন মাঝখানে পর্দা দিয়ে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।’

ক্লাস কীভাবে চালাতে হবে, সে বিষয়ে আফগানিস্তানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি সমিতির পক্ষ থেকে নীতিমালা করে দেওয়া হয়েছে। এতে ছাত্রীদের বোরকা পরা এবং তাদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ রাখতে বলা হয়েছে।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নারী শিক্ষক রাখার কথাও বলা হয়েছে ওই নীতিমালায়। এ ছাড়া মেয়েদের আলাদা করে পাঠ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে অথবা পর্দা দিয়ে আলাদা করা শ্রেণিকক্ষের কথাও বলা হয়েছে।

তবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবানের বেঁধে দেওয়া নিয়ম কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। ওই নীতিমালার বিষয়ে এবং ভাগ করে দেওয়া শ্রেণিকক্ষের ছবি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে চলবে সে বিষয়ে তালেবান মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। অবশ্য তালেবান গত সপ্তাহে বলেছিল, শিক্ষাদান আবারও শুরু করতে হবে। নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে রাখতে হবে।

তালেবানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আফগানিস্তানের সীমিত সম্পদ এবং জনবল বিবেচনায় পর্দা দিয়ে শ্রেণিকক্ষ ভাগ করে দেওয়া খুবই যৌক্তিক। শ্রেণিকক্ষের দুই পাশে একই শিক্ষকের পাঠ দেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো উপায়।’

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘আভিসেনা ইউনিভার্সিটি অব কাবুল’র একটি ছবিতে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের মাঝ বরাবর একটি ধূসর পর্দা টানানো। নারী শিক্ষার্থীদের মাথাসহ পুরো দেহ দীর্ঘ আচ্ছাদনে ঢাকা, তবে মুখ দেখা যাচ্ছে।

দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের হেরাত ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষক রয়টার্সকে জানান, তিনি এক ঘণ্টার ক্লাসকে দুই ভাগে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথমে মেয়েদের এবং পরে ছেলেদের পাঠ দেবেন। তার কোর্সের জন্য নাম লেখানো ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে সোমবার চার ভাগের এক ভাগ উপস্থিত ছিলেন। অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আগেই দেশ ছেড়ে গেছেন।

ওই শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আজ খুবই মানসিক চাপে ছিল। আমি তাদের আসা-যাওয়া এবং লেখাপড়া চালিয়ে যেতে বলেছি, সামনের দিনগুলোতে নতুন সরকার এ বিষয়ে নীতিমালা ঠিক করে দেবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত