প্রকৃত আসামি শনাক্তকরণ

কারাগার ও থানায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুর নির্দেশ

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৮ এএম

প্রকৃত আসামি শনাক্তে আসামিদের তথ্য সংরক্ষণ করতে দেশের সব থানা ও কারাগারে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্র্তৃপক্ষকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর খিলগাঁও থানার এক মামলায় ‘ভুল আসামি’ নোয়াখালীর মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অবৈধ ও আইনবহির্ভূত ঘোষণা সংক্রান্ত এক রায়ে এমন নির্দেশনা এসেছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যবেক্ষণসহ এ রায় দেয়।

আদালত রায়ে তিনটি নির্দেশনা দিয়েছে। এগুলো হলো বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সব থানায় আসামির হাতের আঙুল ও তালুর ছাপ এবং চোখের মণির স্ক্যানিং ব্যবস্থাযুক্ত বায়োমেট্রিক ডেটা পদ্ধতির প্রচলন করা, গ্রেপ্তারের পর আসামির সম্পূর্ণ মুখের ছবি ধারণ ও কেন্দ্রীয় তথ্যভা-ারে সংরক্ষণ করা এবং দেশের সব কারাগারে আঙুল ও হাতের তালুর ছাপ ও চোখের মণির তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি চালু করা।

আদালতে জহির উদ্দিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আইনজীবী শিশির মনির জানান, রাজধানীর খিলগাঁও থানায় ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল দায়ের হওয়া নাশকতার একটি মামলায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শাহজাদপুর গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে মোদাচ্ছের আনছারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর মোদাচ্ছের নিজের নাম-ঠিকানা গোপন করে নিজেকে নোয়াখালীর বসুরহাটের আজগর আলী মোল্লা বাড়ি এলাকার মোহাম্মদ আবদুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নামে পরিচয় দেন। ওই বছরের ৩১ অক্টোবর জহির উদ্দিন নামে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পলাতক হন মোদাচ্ছের। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল জহির উদ্দিনসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয়। ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত জহিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন জহির উদ্দিন।

আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত বছর ১০ মার্চ হাইকোর্ট এক আদেশে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত ও এ নিয়ে রুল জারি করে। পাশাপাশি জহির উদ্দিন মামলার যথাযথ আসামি কি না সেটি তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয়। তদন্ত শেষে গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। এতে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে জহির উদ্দিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামি নন। প্রকৃত আসামি হলেন মোদাচ্ছের আনছারী। এর ধারাবাহিকতায় রুলের নিষ্পত্তি শেষে রায় হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত