এসিল্যান্ড অফিসে কর্মরতদের এক স্থানে তিন বছরের বেশি নয়

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২৪ এএম

তিন বছরের বেশি সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কর্মরত কর্মচারীদের বদলির সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একই জায়গায় দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের নি¤œস্তরের কর্মচারীদের দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সূত্র ধরে তাদের বদলির সুপারিশ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১১তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে গুচ্ছগ্রামে প্রকৃত বরাদ্দকৃতরা বসবাস করছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা এবং কৃষিকাজের জন্য জমি লিজ নিয়ে সেগুলো অন্য কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া কক্সবাজারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কার্যালয় নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অনিয়মের তদন্তে একটি সংসদীয় সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, মো. হাবিবর রহমান, মো. শাহজাহান মিয়া, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ও মো. আমিনুল ইসলাম অংশ নেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন ভূমি অফিসে কর্মরত তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা মূলত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের অধীন। যার কারণে তাদের বিদ্যমান বিধানে জেলার বাইরে বদলির সুযোগ নেই। কমিটি অবশ্য পরে জেলার বাইরে সম্ভব না হলে নিজ জেলার অন্তর্গত অন্যান্য অফিসে বদলির কথা বলেছে।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন চাকরি করার কারণে তারা নানা ধরনের বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এতে করে জনগণ তাদের কাক্সিক্ষত সেবা পায় না। যার কারণে কমিটি বলেছে একই স্টেশনে যারা তিন বছরের বেশি দিন ধরে চাকরি করছে তাদের অন্যত্র বদলি করতে।

তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজার জেলার পিবিআইর কার্যালয় নির্মাণের জন্য ১০০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম হয়েছে। এটা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদও হয়েছে। কমিটি এটা নিয়ে আলোচনা করে উপকমিটি গঠন করেছে। উপকমিটি বিষয়টি তদন্ত করে স্থায়ী কমিটিতে প্রতিবেদন দেবে।’

সংসদীয় কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, কক্সবাজারের ঝিলংজা মৌজায় পিবিআই এবং সিআইডির জেলা কার্যালয় নির্মাণের জন্য ১০০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকাও বিতরণ করা হয়।

এ নিয়ে একটি ইংরেজি গণমাধ্যমে গত ৫ মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংসদীয় কমিটির কার্যপত্রে বলা হয়, ‘২৯ কোটি টাকা ১৫ ভুয়া মালিকের পকেটে’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, ১০০ শতাংশ জমির মূল্য ভুয়া মালিককে দেওয়া হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানায়, ওই খবর প্রকাশ হওয়ার পর গত ৬ মে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। কক্সবাজারের ডেপুটি কমিশনারকে (ডিসি) ওই জমির কাগজপত্র দিতে বলে মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে দুদকে একটি মামলা থাকায় বিষয়টি তদন্তের জন্য সকল নথি জব্দ করা হয়। সে কারণে সংশ্লিষ্ট সকল কাগজ না থাকায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা বা এ বিষয়ে কোনো মতামত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি দিতে পারেনি।

কার্যপত্রে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি গঠনের পর কক্সবাজারের ডিসি কার্যালয়ে জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অনিয়মের ২৪টি আবেদনের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেন। তবে সেখানে অধিগ্রহণ নিয়ে অনিয়মের বিষয়ে উল্লেখ ছিল না।

সংসদীয় কমিটিতে উপস্থিত এক সদস্য জানান, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত