ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞদের মত

ডেলটা ধরনের টিকা এক মাসেই তৈরি করা সম্ভব

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩৩ এএম

করোনাভাইরাসের টিকা মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। তবে দেশে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যারা এখনো সংক্রমিত হননি কিংবা যাদের করোনা হয়নি তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, আমরা করোনাভাইরাস থেকে পরিত্রাণ পাব কি না এ বিষয় নিয়ে হতাশার কোনো কারণ নেই। ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে অবস্থার পরিবর্তন হবে, ভাইরাসের অবস্থায়ও পরিবর্তন আসবে।

গত শুক্রবার রাতে ‘ইমিউন রেসপন্স টু কভিড ১৯ : ইমপোর্টেন্স অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ফলে টিকা নেওয়ার আগে সংক্রমিত হয়ে এরপর টিকা নিলেও পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা টিকা নেওয়ার পরের অবস্থার কাছাকাছি। তাই যারা সংক্রমিত হননি তাদের আগে টিকা দেওয়া কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্ট আয়োজিত ওয়েবিনারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জানুয়ারিতে শীতের সময় রেসপিরেটরি ডিজিজের (শ্বাসপ্রশ্বাস-সংক্রান্ত রোগ) মতো করোনাভাইরাসেও সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি ছিল, কিন্তু তা হয়নি। আবার গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে এ বছরের সেপ্টেম্বরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কম ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন চাইলে ডেলটা ধরনের উপযোগী করে টিকা এক মাসের মধ্যেই তৈরি করা সম্ভব। তাছাড়া দেশে একটি ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট ছিল। পোলিও ও গুটি বসন্ত নির্মূলের পর সেটি টিকা উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ চেয়েছিল নিজেরা উৎপাদন করবে না, বরং কিনে নেবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশকে পঙ্গু করে দেওয়া হলো।’

বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইফ উল্লাহ মুন্সি বলেন, ‘ইবোলাসহ কিছু ভাইরাসের সংক্রমণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলে সেই রোগ সাধারণত আর হয় না। কভিড ১৯-এর ক্ষেত্রে হিউমোরাল ইমিউন রেসপন্সের প্রভাব এ ক্ষেত্রে অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় প্রকটভাবে আছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রথম দিকে করোনাভাইরাসে যেমন ভয় পেয়েছিলাম, চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে এমনটা পাইনি। টিকা আমাদের একটা আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। করোনাভাইরাসের অতিমারিতে মৃত্যুহার এক-শতাংশের কিছুটা ওপরে। এর কারণ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করছে বলেই আমরা ভালো হচ্ছি।’

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এএম জাকির হোসাইন যুক্ত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত