‘ভাড়া দিতে না পারায়’ ৪ শিশুকে লঞ্চ থেকে নদীতে নিক্ষেপ!

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৮ পিএম

ভাড়া দিতে না পারায় ঢাকাগামী একটি লঞ্চ থেকে চারটি শিশুকে ছুড়ে মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশের বরাত দিয়ে রবিবার জানিয়েছে বিবিসি।

এদের মধ্যে দুটি শিশুকে পুলিশই নদী থেকে উদ্ধার করেছে। তাদের সঙ্গে থাকা আরও দুটি শিশুও উদ্ধার পেয়েছে বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছে।

নৌ-পুলিশ জানায়, তারা লঞ্চটিকে ও এটির ক্রুদের আটকের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রইছ উদ্দিন বলেন, শনিবার মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে কিছু দূরে মেঘনা নদীর মাঝখান থেকে ভাসমান অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করেন তিনি ও তার সহকর্মীরা।

তাদেরকে একটি লঞ্চ থেকে ছুড়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে শিশু দু’টির বক্তব্যের বরাত দিয়ে জানান তিনি।

ওসি জানান, শনিবার সকাল ১১টার দিকে স্পিডবোটে গজারিয়া থেকে মুন্সীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ঢাকার দিকে দুটি শিশুকে সাঁতার কাটতে দেখেন তিনি। ওই সময় তারা উদ্ধারের জন্য চিৎকারও করছিল।

এ অবস্থায় ওসি স্পিডবোট নিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধারের আগে শিশু দুটি কতক্ষণ পানিতে ছিলেন সে বিষয়ে জানাতে তিনি পারেননি।

রইছ উদ্দিন বলেন, ‘কতক্ষণ পানিতে ছিল সেটা জানি না, তবে তারা সুস্থই ছিল।’

ওই শিশু দুটির বয়স ১২-১৩ বছর হবে বলে জানান তিনি। উদ্ধার করার পর দুই শিশু ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে জানায়, ফেরিতে তারা পানি বিক্রি করে। তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকাতেই থাকে।

মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকাতে ফেরার জন্য তারা একটি লঞ্চে ওঠে। তবে তাদের কাছে ভাড়ার জন্য কোনো টাকা না থাকায় লঞ্চের কর্মীরা তাদের পানিতে ফেলে দেয় বলে ওসিকে জানায় দুই শিশু।

তিনি বলেন, শিশু দুটির এই বক্তব্য খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।। এজন্য লঞ্চটির ক্রুদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

নৌ-পুলিশের সহায়তায় লঞ্চটিকে আটক করতে, তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

উদ্ধার হওয়া দুই শিশু পুলিশকে জানিয়েছে, তাদেরকে যখন লঞ্চের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়, তখন তাদের সঙ্গে আরও দুই শিশু ছিল।

গজারিয়া থানার ফেইসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিওতে এক শিশুকে বলতে শোনা যায়, ‘আরও দুইজন ছিল। ওদেরকে তো এখন দেখতেছি না।’

ওই দুই শিশুর বিষয়ে পুলিশ জানায়, তাদেরকে গজারিয়া থানার পুলিশ উদ্ধার করেনি।

ওসি রইছ উদ্দিন জানান, তারা জানতে পেরেছেন যে, চার শিশুই শেষমেশ জীবিত উদ্ধার হয়েছে। তবে কারা, কীভাবে বাকি দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে তা তারা জানতে পারেননি।

উদ্ধারের পর পুলিশ শিশুদের ঢাকাগামী আরেকটি লঞ্চে তুলে দেয়। বর্তমানে তারা ঢাকাতে তাদের পরিবারের সঙ্গে রয়েছে বলে জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত