দেশের বিভিন্ন জেলার ১৬টি সরকারি হাসপাতালে ২৮টি রোগনির্ণয় যন্ত্র বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দিতে হবে হাইকোর্টে। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর গতকাল রবিবার শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।
রুলে দীর্ঘদিন ধরে এসব রোগনির্ণয় যন্ত্র অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার বিষয়ে বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক,১৬ সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদেশে। আদালতে ভার্চুয়ালি রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
মনোজ কুমার ভৌমিক দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ২৪ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘১৬ হাসপাতালে ২৮টি যন্ত্র বাক্সবন্দি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে গত ২৬ আগস্ট জনস্বার্থে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি তিনি নিজেই করেন। তিনি বলেন, ‘আদালত আদেশে এসব যন্ত্রপাতি কেন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে সেটি তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিবকে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। এছাড়া এসব যন্ত্রপাতি এভাবে পড়ে থাকার ঘটনায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। প্রতিবেদন দেওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশ হবে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলার বেশকিছু উপজেলার ১৬ টি সরকারি হাসপাতালে ২৮ টি রোগনির্ণয় ব্যবহার হচ্ছে না। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি ও ভেন্টিলেটর যন্ত্র। বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে থেকে যন্ত্রেরে কোনটি নষ্ট হয়ে গেছে, কোনোটি নষ্ট হওয়ার উপক্রম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এর কারণ হিসেবে লোকবলের অভাব ও কারিগরি সহায়তার ঘাটতিকে দুষছেন। বিভিন্ন জেলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাক্সবন্দি যন্ত্রগুলোর মধ্যে আছে ১৩ টি এক্স-রে, ছয়টি ভেন্টিলেটর, চারটি আলট্রাসনোগ্রাম, একটি ইসিজি, একটি ল্যাপারোস্কপি, একটি কালচার ইনকিউবেটর, একটি হট এয়ার ওভেন ও একটি অটোক্লেভ মেশিন।
