বন্যার পানি পার হয়ে স্কুলমুখী শিশুদের অদম্য যাত্রা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০৫ পিএম

চারিদিকে থৈ থৈ পানি। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর স্কুল খোলার আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে বন্যার পানি। তবু কাদা পানি মাড়িয়ে বা নৌকা চালিয়ে অদম্য ইচ্ছা নিয়ে বিদ্যালয়ে আসছে শিশুরা। এমনই দৃশ্য চোখে পড়েছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১১৯ নম্বর ভাওড়া নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, উপজেলার বন্যাকবলিত শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানর কার্যক্রম চালু রয়েছে। সোমবার উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর রবিবার মির্জাপুরেও খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় বন্যার পানি। প্রাথমিক মাধ্যমিক মিলে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যাকবলিত থাকায় এগুলো খোলা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের অদম্য ইচ্ছার কারণে থেমে থাকেনি বন্যাকবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান। 

ভাওড়া নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিমা ও সাদিদ জানায়, বিদ্যালয়ে আসা আমাদের কাছে খুবই আনন্দের। সে জন্য নৌকা নিয়ে এসেছি।

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো. হানিফ মিয়া বলেন, দীর্ঘ দিন পর বিদ্যালয় খুলেছে। বন্যাকবলিত হওয়ায় আমরা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে বাধ্য করছি না। তাদের অদম্য ইচ্ছা থেকেই কাদা পানি মাড়িয়ে, নৌকাযোগে বিদ্যালয়ে আসছে। আমরা পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

image

বন্যাকবলিত উপজেলার কুইচতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মারিশনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দ্যে কাওয়ালজানী খাদেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়সহ  শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একইভাবে পাঠদান চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলার দৃশ্য দেখা গেছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ১৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৩টি বন্যাকবলিত হলেও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত