ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফেরা চার কোম্পানির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কোম্পানি চারটি হচ্ছে- বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস ও মুন্নু ফেব্রিকস লিমিটেড। মূল মার্কেটে ফেরার মাত্র তিন মাসে এই চার কোম্পানির শেয়ার ১৭১ থেকে ১ হাজার ২৬৫ শতাংশ বেড়েছে। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে এসইসি।
এ বিষয়ে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওটিসি থেকে ফেরা চার কোম্পানির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে ডিএসইকে আগামী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক চিত্র, মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের সত্যতা ও অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধিতে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে ডিএসই।
প্রসঙ্গত, মূল মার্কেটে ফেরাতে বিভিন্ন শর্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় ওই কোম্পানিকে। এসইসির অনুমোদন পাওয়ার পর গত ১৩ জুন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু হয় কোম্পানিগুলোর শেয়ার। তবে লেনদেন শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতি কার্যদিবসই সর্বোচ্চ দরে নামমাত্র শেয়ার কেনাবেচা হয়। এরমধ্যে মুন্নু ফেব্রিকস ছাড়া অন্য তিন কোম্পানি স্বল্প মূলধনি হওয়ায় মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে শেয়ার দর ১২ গুণ পর্যন্ত বাড়ে। যদিও মূল মার্কেটে ফেরার পর এসব কোম্পানির মুনাফা কমে যায়। গতকাল অস্বাভাবিক দর তদন্তে এসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ওটিসি থেকে ফেরা চারটি কোম্পানির শেয়ার গত ১৩ জুন মূল মার্কেটে লেনদেন শুরু হয়। এর পর থেকেই টানা দর বাড়তে থাকে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের। এরমধ্যে কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফায় পতনের খবর প্রকাশও তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এমনকি দর বৃদ্ধির নেপথ্যে কোনো কারণ নেই বলে ডিএসই থেকে সচেতনতামূলক তথ্য প্রকাশের পরও টানা দর বাড়তে থাকে।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৩ জুন মূল মার্কেটে লেনদেন শুরু হওয়ার পর ডিএসইতে বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির শেয়ারের দর ছিল ৫৫ টাকা, যা টানা বেড়ে গতকাল ২২৩ টাকা ৯০ পয়সায় উন্নীত হয়। গত তিন মাসে শেয়ারটির দর বাড়ে ৩০৭ শতাংশ। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণে কোম্পানির পিই রেশিও ৫৯৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। যদিও ২০২০-২১ হিসাব বছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বাংলাদেশ মনোস্পুলের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) নেমেছে ২৮ পয়সায়, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ৬ পয়সা। আয়ে ব্যাপক পতনের পরও কোম্পানির শেয়ার দর টানা বেড়েছে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। স্বল্প মূলধনি হওয়ার কারণেই অস্বাভাবিক হারে দর বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওটিসি থেকে ফেরা পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের দর গত ১৩ জুন ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা, যা টানা বেড়ে গতকাল ২১৫ টাকা ৯০ পয়সায় উন্নীত হয়। গত তিন মাসে শেয়ারটির দর বাড়ে ১ হাজার ১২৬ শতাংশ। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণে কোম্পানির পিই রেশিও ৩৬৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। যদিও ২০২০-২১ হিসাব বছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) পেপার প্রসেসিংয়ের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) নেমেছে ৪৪ পয়সায়, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৫৩ পয়সা। আয়ে ব্যাপক পতনের পরও কোম্পানির শেয়ার দর টানা বেড়েছে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
ওটিসি থেকে ফেরা তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দর গতকাল ১৮০ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে, যা গত ১৩ জুন ছিল ১৩ টাকা ২০ পয়সা। এ হিসাবে গত তিন মাসে শেয়ারটির দর বাড়ে ১ হাজার ২৬৫ শতাংশ। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণে কোম্পানির পিই রেশিও ১৩৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ওটিসি থেকে ফেরা চার কোম্পানির মধ্যে তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দর আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। ২০২০-২১ হিসাব বছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯৮ পয়সায়, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৮১ পয়সা। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি ৬ লাখ টাকা। সম্প্রতি কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে, যা অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধিতে আরও প্রভাব ফেলছে।
ওটিসি থেকে ফেরা মুন্নু ফেব্রিকসের পরিশোধিত মূলধন ১১৫ কোটি টাকা। ২০২০-২১ হিসাব বছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) মুন্নু ফেব্রিকসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ পয়সায়, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৬ পয়সা। স্বল্প আয়ের এই কোম্পানির শেয়ার দর গত ১৩ জুন ছিল ১১ টাকা, যা গতকাল ২৯ টাকা ৯০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। তিন মাসে দর বেড়েছে ১৭১ শতাংশ। কোম্পানির পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৫৬০ পয়েন্টে।
