জকোভিচকে ইতিহাস গড়তে দিলেন না মেদভেদেভ

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৭ এএম

নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে রবিবার ২৩,৭০০ দর্শকের মধ্যে বছরের সবকটি গ্র্যান্ডসø্যামজয়ী সর্বশেষ পুরুষ খেলোয়াড় রড লেভারও ছিলেন। এই কিংবদন্তির ৫২ বছর আগে গড়া অনন্য কীর্তি ছোঁয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল নোভাক জকোভিচের সামনে। ফেদেরার-নাদালকে ছাড়িয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ডসø্যাম শিরোপা (২১টি) জয়ের ইতিহাসও গড়ার সুযোগ ছিল সার্বিয়ানের সামনে। কিন্তু কোনোটাই হতে দেননি দানিল মেদভেদেভ।

৬-৪, ৬-৪, ৬-৪ গেমে জকোভিচকে হারিয়ে প্রথম গ্র্যান্ডসø্যাম শিরোপা জিতেছেন এই রাশিয়ান। এই জয়ে রাশিয়ার গ্র্যান্ডসø্যাম শিরোপা খরা কাটল। রাশিয়ার সর্বশেষ গ্র্যান্ডসø্যাম শিরোপা জয়ী মারিয়া শারাপোভা, যিনি ২০১২ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেছিলেন। আর পুরুষদের মধ্যে সর্বশেষ শিরোপা জয়ী ছিলেন তারও ৭ বছর আগে, ২০০৫ সালে মারাত সাফিন জিতেছিলেন ফ্রেঞ্চ ওপেন। সাফিনই ২০০০ সালে ইউএস ওপেনের পুরুষ এককের শিরোপা জয়ী সর্বশেষ রাশান। তার ছয় বছর পর শারাপোভা নারী এককের সর্বশেষ রুশ চ্যাম্পিয়ন। সরাসরি সেটে হারের পর প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি চাপে ভেঙে পড়লেন জকোভিচ। ২ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের লড়াইয়ে তাকে র‌্যাকেট ভাঙতেও দেখা গেছে। এমনকি শেষ দিকে যখন হার প্রায় নিশ্চিত তখন টাওয়েলে মুখ ঢেকে তাকে কান্না করতেও দেখা যায়। মেদভেদেভের কাছে হারের পর তার গলায় ছিল চাপমুক্তির সুর। জকোভিচ বলেন, ‘এবার শান্তি। এই প্রতিযোগিতার আগে যে হইচই শুরু হয়েছিল এবং মানসিকভাবে গত দুই সপ্তাহ ধরে আমাকে যা সহ্য করতে হয়েছে, তা সত্যি আর সহ্য করতে পারছিলাম না। আমার পক্ষে সামলানো সহজ কাজ ছিল না। এতক্ষণ পর অবশেষে একটু শান্তি পেলাম।’ হারের কারণ সম্পর্কে জকোভিচ বলেন, ‘আমার পা আর নড়ছিল না। অনেক চেষ্টা করছিলাম। নিজের সেরাটা দিয়েছি। অনেক আনফোর্সড এরর করেছি। সার্ভ প্রায় করতেই পারিনি। মেদভেদেভের মতো খেলোয়াড়, যে দুর্দান্ত রিটার্নের জন্য বিখ্যাত, তার বিরুদ্ধে এমন করলে হারতে হবেই। সব দিক থেকেই আমি আজ ওর থেকে পিছিয়ে ছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত এটা এমন একটা দিন, যেটা আমার ছিল না।’

২০১৬ সাল গ্র্যান্ডসø্যামে পা রাখা মেদভেদেভ ২০১৯ সালে ইউএস ওপেনেই প্রথমবার ফাইনালে খেলেছিলেন। হেরে যান রাফায়েল নাদালের কাছে। গত বছর তিনি সেমিফাইনালে হারেন। পরে চ্যাম্পিয়ন ডমিনিক তিমের কাছে। আর ২০২১-এ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে তাকে হারান জকোভিচ। সেই হারের প্রতিশোধ নিলেন ২৫ বছর বয়সী, ‘অবশ্য জকো তার সেরা ফর্মে ছিল না। আমরা তাকে এই টুর্নামেন্টেই এর চেয়ে অনেক ভালো খেলতে দেখেছি। প্রশ্ন হলো আজ যদি তার দিন হতো তাহলে কি আমি তাকে থামাতে পারতাম? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই। তবে জিতেছি বলে আমি খুব খুশি। এটা আমার প্রথম গ্র্যান্ডসø্যাম। পরের কয়েকটা দিন আমি শিরোপা নিয়ে উৎসব করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত