ইউনিয়ন ও ক্লাবের ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩৯ এএম

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ জন সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। গত রবিবার দেশের সব ব্যাংকে এ তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

যাদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মোল্লা জালাল ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মজিদ, ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোরসালীন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান।

ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মজিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাতে আমাদের নিয়ে যে সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে তা স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছি। কারণ রাষ্ট্র চাইলে যেকোনো নাগরিকের আর্থিক লেনদেনের তথ্য চাইতে পারে এবং নাগরিকরা তা দিতে বাধ্য। এ ধরনের সংবাদ মানুষ জানতে পেরে আমাদের সন্দেহের চোখে দেখবে। তাই আমার দাবি থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের সম্পর্কে যে তথ্য-উপাত্ত পাবে তা যেন প্রকাশ করা হয়। প্রকাশ পেলে আমাদের ভাবমূর্তি অটুট থাকবে। প্রকাশ করা না হলে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষের সন্দেহের চোখ সব সময় আমাদের দিকে থাকবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সারা দেশে যেখানে দুর্নীতিতে ভরে গেছে, সেখানে সাংবাদিকরা সমাজের বাইরে না। অন্য পেশাজীবীদের বিষয়ে তদন্ত হলে সাংবাদিকদের বিষয়ে তদন্ত হতেই পারে। এখানে অসুবিধার কিছু দেখছি না। যে ১১ জনের নাম দেওয়া হয়েছে তারা সাংবাদিকদের ভোটে নির্বাচিত। তবে তদন্তের আগে এভাবে নাম প্রকাশ দুঃখজনক। আগে তদন্ত করতে পারত। কিন্তু তদন্তের আগে এভাবে নাম প্রকাশ করায় আমরা দেশ, সমাজ ও পরিবারের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হব। মানুষ সন্দেহের চোখে দেখবে। তদন্তের পর যে রিপোর্ট পাওয়া যাবে তা যেন প্রকাশ করা হয়। তাহলে আমার মান সম্মান অক্ষুণœ থাকবে। নতুবা এখন মানুষের মনে যে সন্দেহ দানা বাঁধবে, তা থেকেই যাবে।’  

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, উল্লিখিত ১১ জনের ব্যক্তিগত ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো হিসাব অতীতে অথবা বর্তমানে পরিচালিত হয়ে থাকলে সেসব হিসাবের যাবতীয় তথ্য (যাবতীয় কাগজপত্রসহ হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী) জরুরি ভিত্তিতে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিবরণীর শুধু সফটকপি পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে এই সাংবাদিক নেতাদের নামে কোনো হিসাব অতীতে অথবা বর্তমানে পরিচালিত না হয়ে থাকলে, তা-ও জানাতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত