ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের দিকে ইঙ্গিত করে হাইকোর্ট উষ্মা প্রকাশ করে বলেছে, বিনিয়োগ করে মানুষ নিঃস্ব হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করে। অনিবন্ধিত চড়া সুদের ব্যবসা বন্ধ চেয়ে করা রিট আবেদনের শুনানিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা এবং গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর-উস-সাদিক চৌধুরী।
শুনানিতে বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়ে হাইকোর্ট বলে, ‘মানুষের টাকা কেন লুট হচ্ছে। টাকা কেন দেশের বাইরে যাচ্ছে? এগুলো বন্ধ করার দায়িত্ব কাদের?’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নুর-উস-সাদিক আদালতের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকার যে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নয়। ইভ্যালির সংশ্লিষ্ট লোকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এহসান গ্রুপের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেউ অপরাধ করলেই তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’ এ সময় আদালত বলে, ‘সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে ঠিক আছে। কিন্তু কখন ব্যবস্থা নিচ্ছে, যখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম। এখন রেমিডি (প্রতিকার) কোথায়? মামলা করার পর ধরা পড়েছে। অপরাধী জেলে যাবে যাক। কিন্তু টাকার কী হবে?’
নুর-উস-সাদিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুনানিকালে এ প্রসঙ্গটি (ই-কমার্স) আসে। আমাদের বক্তব্য ছিল সরকার তো ব্যবস্থা নিচ্ছে। সুনির্দিষ্টভাবে কারও বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ করলে তারা তো ব্যবস্থা নেয়। আদালত তখন বলে, মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নিয়ে তো লাভ নেই। আমরা তখন বলেছি, সাধারণত অপরাধী অপরাধ করার পরই তো তাকে ধরা হয়।’ ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘শুনানিতে এহসান গ্রুপ ও ই-কমার্সের প্রসঙ্গটি এলে আদালত তখন হতাশার সঙ্গে বলেন যে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিন্তু দেরিতে হচ্ছে। মানুষ নিঃস্ব হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
হাইকোর্ট রিট আবেদনের ওপর আদেশের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করে। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া অনিবন্ধিত সুদের ব্যবসা বন্ধ চেয়ে ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আবেদনে দেশের ৬৪ জেলার ডিসি (জেলা প্রশাসক) ও এসপিকে (পুলিশ সুপার) বিবাদী করা হয়। রিটকারী আইনজীবীর ভাষ্য, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমএলএম কোম্পানি, সমবায়ের নামে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে চড়া সুদে মানুষকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ এসব সুদের কারবারিদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার এসব অনিবন্ধিত সংস্থা ও সুদের কারবারিদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ঋণের বোঝা টানতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
