দিনাজপুরে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযানে আটক ১১ জঙ্গির মধ্যে ৬ জনের একদিন করে রিমান্ড এবং ৫ জনের দুইদিন করে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন দিনাজপুরের ৩টি পৃথক আদালতের বিচারক।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলার পৃথক ৩টি আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১ এর বিচারক ইসমাইল হোসেন ৫ জন জঙ্গি ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার হরিণাকুন্ডু গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে রেদোয়ানুল হক কাভি (২১), ঢাকা মিরপুর- ১২ এর মৃত কামাল উদ্দীন মজুমদারের ছেলে সাখাওয়াত আহমেদ বিন কামাল (২৭), চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই থানার ওয়াহেদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মহসিন ভুইয়া (২৪), কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানার চরহটর আলগি গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ (২৪) ও ঢাকার মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার পাইনিওয়ার হাউজিং কলোনির ওবায়দুল বারীর ছেলে নাফিস হাবিবকে (৩০) দুইদিন করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ প্রদান করেন।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪ এর বিচারক শিশির কুমার বসু আটক ৩ জঙ্গি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর দৌলাপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান (২৩), একই জেলার কাউনিয়া থানার নিজপাড়া গ্রামের জামাল উদ্দীনের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২২) ও নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার হাতিখানা নতুন বাবুপাড়ার আব্দুস সামাদ সাহেদের ছেলে সজল ওরফে সাব্বির আহমেদকে (৩০) একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৩ এর বিচারক শারমিন আক্তার ৩ জঙ্গি রংপুর কোতোয়ালি থানার মুন্সিপাড়ার নকিম উদ্দীনের ছেলে আবু সায়েদ হাসান ওরফে রূপম (২৮), ঢাকার শ্যামপুর থানার রামুরহাট রক্তিম জুরায়েন গ্রামের মোস্তফা খানের ছেলে মো. জুনায়েদ খান (২৫) ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বরুয়াদৌলা গ্রামের ইয়াকুব মিয়ার ছেলে হুমায়ুন কবিরকে (২৬) একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লিমেন্ট রায়ের আদালতে ৩টি থানায় আটক ১১ জঙ্গিকে সোপর্দ করে ৫দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পরে বিচারক ২১ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে তাদের রিমান্ড শুনানি শেষে ৬ জঙ্গির একদিন করে রিমান্ড ও অপর ৫ জঙ্গির ২দিন করে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ প্রদান করেন বিচারকরা। বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আটক জঙ্গিদের নিজ হেফাজতে নেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ১৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে জেলার সদর উপজেলার ২টি মসজিদ, বিরল উপজেলার ১টি মসজিদ ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ১টি মসজিদে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে ৪৫জনকে আটক করা হয়।
পরে তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ১৯ জঙ্গিকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ১১ জঙ্গির বিরুদ্ধে ৩টি থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
এ ছাড়া অপর ৮ জঙ্গির বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মামলা থাকায় তাদের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
