ষাটোর্ধ্ব জেলে বোয়াবেনতুরা মার্টিন খেয়াল করে দেখলেন, মাছেরা আজকাল শুধু ভীতই নয়, তাদের আকারও ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। কিছু মাছ আর দেখা যাচ্ছে না। কিছুদিন আগেই মার্টিন ১০ কোজি ওজনের একটি মাছ পেয়েছিল। অথচ চল্লিশ বছর আগে এই মার্টিনই দিনে কয়েকশ কেজি মাছ পেতেন সাগর থেকে, যা দিয়ে নিজের গোটা পাড়ার মানুষকে বিলাতে পারতেন। আফ্রিকান উপকূলের কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জের মাইয়ো দ্বীপে এখন আর আগের সুদিন নেই। ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য সি’ বা সমুদ্রের অভিভাবক নামের একটি দলে ২০১৬ সালে যোগ দেন মার্টিন। তাদের দলে মার্টিন ছাড়াও আরও ১৯ জন আছেন। এই বিশজন মাইয়ো উপকূলে অবৈধ মাছ শিকার নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকের মতো কাজ করেন। দ্য গার্ডিয়ানকে এক সন্ধ্যায় মার্টিন বলেন, ‘আমি যদি এখন মাছ শিকার নাও করি, তবু একজন অভিভাবক হিসেবে আমি কাজে যাবই। কারণ এখন যেভাবে চলছে, তা চলতে থাকলে আমরা মাছশূন্য হয়ে যাব।’
মার্টিনদের সামনে বিপদ হলো আধুনিক মাছ ধরার যন্ত্রপাতি। মোটরচালিত নৌকা নিয়ে অত্যাধুনিক মাছ ধরার যন্ত্র দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মাছ শিকার করে চলে যায় একদল অসাধু ব্যবসায়ী। মার্টিনরা এমন অবৈধ মাছ শিকার দেখতে পেলে গোয়েন্দাদের মতো যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়। কর্র্তৃপক্ষ তা দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গার্ডিয়ানদের এই দলটি অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা ছাড়াও ওই অঞ্চলের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায়ও কাজ করেন। তিমি, ডলফিন ও কচ্ছপদের মতো হুমকির মুখে থাকা প্রাণীদের জনসংখ্যা পর্যবেক্ষণ করাও তাদের কাজের মধ্যে। বিভিন্ন দাতা সংস্থাগুলো হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্প পরিচালনা করলেও, ওই বিশজন গার্ডিয়ান কিন্তু এক অর্থে নিজেদের অর্থায়নেই কাজ করে যাচ্ছেন।
কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জে ১৭ ধরনের তিমি ও ডলফিন, ৬০ ধরনের হাঙর ও স্ট্রিং রে এবং ৫ ধরনের সামুদ্রিক কচ্ছপের বাস। এই দীর্ঘ দ্বীপপুঞ্জের আওতায় থাকা উপকূলের মাত্র এক শতাংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি অংশে এখনো চলছে নির্বিচারে অবৈধ মাছ শিকার। স্থানীয় নিয়মে, উপকূলের তিন নটিক্যাল মাইলের মধ্যে কেউ সেমি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল মোটরচালিত নৌকা নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ওই এলাকা স্থানীয় জেলেদের জন্য নির্ধারিত।
