অবশেষে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল টেকনিশিয়ান ও কার্ডিওগ্রাফার পদে নিয়োগ বাতিল করল সরকার। মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষার আট মাস পর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরিবর্তে পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় সরকার বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নেয়। গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়। এর ফলে শুরু থেকেই এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হলো।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব আনজুমান আরা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল টেকনিশিয়ান ও কার্ডিওগ্রাফার পদে নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করার জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্র্তৃক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি থেকে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধিদপ্তরের আওতাধীন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল টেকনিশিয়ান ও কার্ডিওগ্রাফার পদে জনবল নিয়োগের বিষয়ে নিচের নির্দেশনা দিয়েছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়, ‘যেহেতু তদন্ত প্রতিবেদনে লিখিত পরীক্ষার খাতায় অস্পষ্টতা পাওয়া গেছে মর্মে উল্লেখ রয়েছে, সেহেতু বর্ণিত নিয়োগ কার্যক্রম বাতিলপূর্বক পুনরায় নতুন নিয়োগে অল্পসময়ে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক। ইতিপূর্বে যারা আবেদন করেছেন তাদের নতুন করে আবেদনের প্রয়োজন নেই। তারা নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।’
চিঠিতে পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগকারী কর্র্তৃপক্ষ মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল টেকনিশিয়ান ও কার্ডিওগ্রাফার পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওই চিঠিতে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলোÑসে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। এমনকি ‘পরীক্ষায় খাতার অস্পষ্টতা’ পাওয়া গেছে উল্লেখ করলেও, ঠিক কী ধরনের অস্পষ্টতা তা বলা হয়নি। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতের নামও প্রকাশ করা হয়নি। উল্টো অনিয়মের জন্য যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, সেই অধিদপ্তরের একই প্রশাসনের অধীনে পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষার সিদ্ধান্তে নতুন করে বিতর্ক উঠেছে।
এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনেই পরীক্ষা হবে। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এবং নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছ করতে পারেনি, সেই অধিদপ্তরের অধীনেই যদি আবার নিয়োগ পরীক্ষা হয়, তাহলে সংকট কাটবে না। অর্থাৎ বাতিল হওয়া নিয়োগের জন্য যে অর্থ লেনদেন হয়েছে, এই চক্র আবারও তাদেরই নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করবে। নিরপেক্ষ কোনো সংস্থার অধীনে পরীক্ষা নেওয়া উচিত।
এমনকি তদন্তে ঠিক কী পাওয়া গেছে, এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। এই চিঠিকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তারা কেউ ফোন ধরেননি।
অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে নিয়োগের অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে চার সরকারি কর্মকর্তার জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে। এদের মধ্যে একজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের, একজন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এবং বাকি দুজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেকার অ্যান্ড প্রাইভেট সার্ভিসেস মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএমটিএ)। সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। সে কারণে অনেক মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। মামলাজনিত কারণে একটি নিয়োগ আটকে আছে। এ ব্যাপারে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের একটি আদেশও আছে। সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বছর হলো মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে যে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছিল, সেটা বিভিন্ন কারণে বাতিল হলো। এতে আমরা ভীষণ ক্ষুব্ধ, হতাশ ও মর্মাহত।’
এই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেতা বলেন, পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে, আমাদের দাবি, সেখানে চাকরির বয়সউত্তীর্ণদের অন্তর্ভুক্ত করার। কারণ তাদের আর অন্য কোনো সেক্টরে কাজ করার সুযোগ নেই।
এই নেতা বলেন, নিয়োগের অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। নিয়োগ পরীক্ষায় যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, সঙ্গে সঙ্গেই সেটা বাদ দেওয়া উচিত ছিল। সেখানে তা না করে উত্তীর্ণদের আবার মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হলো। সেই পরীক্ষারও কয়েক মাস পরে পুরো নিয়োগ বাতিল করা হলো। এটা খুবই দুঃখজনক। কারণ এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশ ছিল। সেই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো আমরা সমীচীন মনে করছি না।
এর আগে দেশে করোনা শনাক্তে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য গত বছর জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের নির্দেশ দেন। এজন্য মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ১ হাজার ২০০ পদ এবং মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের ১ হাজার ৮০০ পদসহ তিন হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সে বছর ২৯ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ৮৮৯টি পদ এবং মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের ১ হাজার ৮০০টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে ২৩ হাজার ৫২২ ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বিভিন্ন গ্রুপে প্রায় ৫০ হাজার জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। গত বছরের ১২, ১৮ এবং ১৯ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষা হয়। এ বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ও ১০ মার্চ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষাও নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু উত্তীর্ণদের ফল প্রকাশ করছিল না। ফল প্রকাশের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। সর্বশেষ গতকাল এ নিয়োগ বাতিল করে সরকার।
এর আগে ফল প্রকাশে দেরির কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, সবকিছুই প্রস্তুত ছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের আগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টরাও অভিযোগ করেছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এসেছে। এসব অভিযোগ ওঠায় তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রতিবেদন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। তদন্ত কমিটি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারা রিপোর্ট দিলে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তের কতদূর এবং কত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ হবে সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
কী ধরনের অনিয়ম হয়েছিল : গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার আগের দিন অনিয়মের আশঙ্কা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশ রূপান্তর। সেখানে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া যায়। চাকরিপ্রার্থীরা আশঙ্কা করেন, লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরির সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তখন জানান, একটি চক্র চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার নামে ১০-১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন। এজন্য তারা নিজেদের লোক দিয়ে জেলাভিত্তিক তালিকা তৈরি করছেন। তাদের দাবি, টাকা দিলে তারা চাকরিপ্রার্থীকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের ব্যবস্থা করে দেবেন। এমনকি তারা এমনও বলছেন, তাদের তালিকাভুক্তি ছাড়া কারও পক্ষে চাকরি পাওয়া কঠিন হবে।
এসব কর্মকর্তা ও চাকরিপ্রার্থী আরও জানান, প্রশ্ন তৈরির বিষয়টি খুবই গোপনীয় এবং কে কোথায় প্রশ্ন তৈরি করছেন, তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়া কারোরই জানার কথা নয়। কিন্তু অনিয়মের আশ্রয় নিতেই এ চক্র প্রশ্ন তৈরির তথ্য ফাঁস করে দেয়। যেখানে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পশ্চিমপাশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল লাইব্রেরির আশপাশে চাকরিপ্রার্থীদের আনাগোনার কথাও শোনা গেছে তখন।
বাধ্য হয়ে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পেলে পরীক্ষার আগের রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের লোকজনকে দিয়ে নতুন করে প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষা নেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ চক্র এত বেশি তৎপর ছিল যে, পরীক্ষার হলে তারা বিভিন্ন রকমের অনিয়মের আশ্রয় নেয়। লিখিত পরীক্ষার পরে তারা বিভিন্ন বাসায়, হোটেল-রেস্তোরাঁয় গোপনে খাতায় লেখায়। এমনকি পরীক্ষার দিন ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষার হলে প্রশ্নের উত্তর পাঠায়।
লিখিতভাবে অনিয়মের তথ্য জানান দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা : লিখিত পরীক্ষার পরপরই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তা আমলে না নিয়ে উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তীব্র হলে গত ১৩ এপ্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাকেও রাখা হয়।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, লিখিত পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তাকে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সময় দেখতে পান, পরীক্ষার্থীরা খাতায় ফুল মার্কস পেয়েছে। কিন্তু সেই প্রশ্নই যখন জিজ্ঞেস করেছেন, তখন তারা উত্তর দিতে পারছেন না। তখন তাদের সন্দেহ হয়। তখন এই দুই কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে এসব অভিযোগ মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানান।
তারা দুজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লিখিত চিঠিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানায়, লিখিত পরীক্ষায় কঠিন প্রশ্নেও উত্তীর্ণদের বেশির ভাগ অনেক ভালো নম্বর পান। কিছু খাতায় সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর লেখা। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা শুরু হলে দেখা যায়, যারা অনেক নম্বর পেয়েছেন, তারা মৌখিক পরীক্ষার কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। যারা ৪০ থেকে ৫৯ পর্যন্ত নম্বর পেয়েছেন, তারা অনেক ভালো মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়।
মেডিকেল টেকনোলজিস্টের তীব্র সংকট : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, একজন চিকিৎসকের বিপরীতে পাঁচজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকার কথা। দেশে সরকারি পর্যায়ে চিকিৎসক আছেন ৩০ হাজার। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন মাত্র পাঁচ হাজার। অর্থাৎ বর্তমানে ছয়জন চিকিৎসকের জন্য আছেন একজন টেকনোলজিস্ট। অথচ এই ছয়জনের জন্য থাকার কথা ৩০ টেকনোলজিস্ট।
ঢাকা ও ঢাকার বাইরের একাধিক সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, সেই হিসাবে ১ লাখ ৫০ হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকার কথা থাকলেও সর্বসাকল্যে আছে মাত্র ৫ হাজার ১৬৫ জন। মোট পদ (ছয়টি শাখা মিলিয়ে) ৭ হাজার ৯২০টি। পদ শূন্য আছে ২ হাজার ৭৫৫টি। এর মধ্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) মোট পদ ২ হাজার ১৮২টি, কর্মরত ১ হাজার ৪১৭ জন ও পদ শূন্য আছে ৭৬৫টি। ফলে সারা দেশের ৩৩টি ল্যাবরেটরির জন্য নমুনা সংগ্রহ করছেন মাত্র ৫০০ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট।
