আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করেছে তালেবান। গতকাল মঙ্গলবার ডেপুটি মন্ত্রীদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এবারও কোনো নারীকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক করে দিয়ে বলে আসছে, তালেবানকে বিচার করা হবে তাদের কাজ দিয়ে। আর তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বীকৃতির বিষয়টি নির্ভর করবে নারী ও সংখ্যালঘুদের সঙ্গে তাদের আচরণের ওপর। ১৯৯০-এর দশকে তালেবানের পুরনো শাসনামলে নারী ও মেয়েশিশুদের স্কুল, কলেজ, কাজে যোগ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পক্ষে তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদেরও যুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, হাজারা জনগোষ্ঠীর সদস্যও মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। ভবিষ্যতে হয়তো নারীরাও যুক্ত হবেন। জবিউল্লাহ মুজাহিদ আরও বলেছেন, ‘নতুন করে তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যুক্ত হয়েছে। আজকে ঘোষিত পদগুলো সরকারকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে।’ এ মাসের শুরুর দিকে প্রথম অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সদস্যের নাম জানিয়েছিল তালেবান।
তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুজাহিদ বলেন, ‘আমাদের সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার দায়িত্ব জাতিসংঘ এবং অন্য দেশগুলোর। ইউরোপিয়ান, এশিয়ান এবং ইসলামিক দেশগুলোর উচিত আমাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা।’ সম্প্রতি ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে তালেবান। জবিউল্লাহ মুজাহিদ এ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, এটা সাময়িক সিদ্ধান্ত। তারা কখন স্কুলে যেতে পারবে তা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
দুই দশকের যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের মধ্যে গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এরপর তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এবার নারী অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবে তারা। তবে শরিয়াহ আইনের মধ্যে থেকেই তা করা হবে।
তালেবান নিজেদের গঠিত সরকারকে এখনো অন্তর্বর্তী সরকার বলছে। তবে দেশটিতে আদৌ কোনো নির্বাচন হবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট না হলেও বেশ কয়েকজন তালেবান নেতা জানিয়েছেন, তারা খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন। এদিকে পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠনের আগে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রীদের যে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা, তা কবে নাগাদ হবে সে বিষয়ে তালেবান কর্র্তৃপক্ষ কিছুই জানায়নি।
