ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় আলোচিত সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদন হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
নুসরাতের জবানবন্দি ভিডিও করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক ওসির জামিন আবেদনটির শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছিল। বুধবার ওই আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছে বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদনের শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মুরাদ রেজা। তার সঙ্গে ছিলেন রেদওয়ান আহমেদ রানজীব।
আইনজীবী রেদওয়ান আহমেদ রানজীব গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৯ সালে ২৮ নভেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৮ অগাস্ট মোয়াজ্জেম হোসেনের আপিল গ্রহণ করে হাইকোর্ট।
তিনি বলেন, এরপর নভেম্বরে এই জামিন আবেদনটি করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত জামিন আবেদনটির শুনানি তিন মাসের জন্য মুলতবি করেছিল। সে আবেদনটিই আজ কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। এখন হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে জামিন আবেদনটি নিয়ে যাবেন বলে জানান আইনজীবী।
প্রসঙ্গত, সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত ২০১৯ সালের মার্চে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। সে সময় সোনাগাজী থানায় তার জবানবন্দি নেন তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এর কয়েক দিন পর মাদ্রাসার ছাদে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়। তখন নুসরাতের ওই জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হলে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেমকে আসামি করে ঢাকায় বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
পিবিআইয়ের এমন প্রতিবেদনেও পরিদর্শক মোয়াজ্জেম ওই ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়েছেন বলে বলা হয়।
বেআইনিভাবে নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও করার দায়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারায় মোয়াজ্জেমকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক। আর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ায় ২৯ ধারায় তাকে দেওয়া হয় তিন বছরের কারাদণ্ড।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে দুই ধারায় পাঁচ লাখ করে মোট দশ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ওই রায়ে। জরিমানার এই টাকা নুসরাতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে বলা হয়। ওই টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাস করে মোট এক বছর সাজা খাটতে হবে।
নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় তার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ জনকে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড দেয় ফেনীর নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়টি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে শুনানির জন্য এখন হাইকোর্টে।
