ইভ্যালির সম্পদ হস্তান্তর ও বিক্রিতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩৭ এএম

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার প্রতারণার শিকার এক গ্রাহকের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক কোম্পানি বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম মাছুম ও সৈয়দ মাহসিব হোসাইন। পরে ব্যারিস্টার সৈয়দ মাহসিব হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইভ্যালি অবসায়নে গ্রাহকের আবেদন গ্রহণ করে আদালত অন্তর্বর্তী আদেশ ও কেন ইভ্যালিকে অবসায়ন করা হবে না, তার কারণ দর্শাতে নোটিস দিয়েছে। এর ফলে ইভ্যালির কোনো সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোম্পানি আইনের ২৪১ ও ২৪২ ধারা অনুযায়ী, কোম্পানি কোনো পাওনাদারের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান অবসায়নে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন গ্রাহক। এরপর কোম্পানি কী অবস্থায় আছে, তা আদালতকে বোঝানোর দায়িত্ব বর্তায় প্রতিষ্ঠানের ওপর।’

আইনজীবীরা জানান, পেশায় চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন ইভ্যালির মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে গত মে মাসের শেষ দিকে একটি ওয়াশিং মেশিন কিনতে আগ্রহ দেখান। এরপর ৩০ ও ৩১ মে নগদ এবং বিকাশের মাধ্যমে তিনি পণ্যটির মূল্য পরিশোধ করে রসিদ বুঝে নেন। ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য দেওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ মাসেও তা পাননি। এ সময় গ্রাহক বিভিন্নভাবে ইভ্যালির সঙ্গে যোগাযোগ করে পণ্য অথবা টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরতে অপারগতা জানিয়ে পণ্য দেওয়ার কথা বলে বারবার সময়ক্ষেপণ করে ইভ্যালি। একপর্যায়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হন এবং আদালতে ইভ্যালির অবসায়ন করে একজন অবসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুডেটর) নিয়োগ, তাদের সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন ফরহাদ হোসেন।

আবেদনে ইভ্যালি লিমিটেড, রেজিস্ট্রার জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, কনজ্যুমার রাইটস প্রোটেকশন ব্যুরো, নগদ, বিকাশ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, ই-ক্যাব অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বেসিস, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

হাইকোর্ট বিবাদীদের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে এবং ওই দিন পরবর্তী শুনানির জন্য ধার্য করেছে।

তিন বছর আগে বাংলাদেশে ইভ্যালির কার্যক্রম শুরু হয়। গাড়ি, মোটরসাইকেল, স্মার্ট টিভি, এয়ারকুলার, ফ্রিজ, গৃহস্থালির আসবাব, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন পণ্য অর্ধেক দামে বিক্রির লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে গ্রাহকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের চটকদার বিজ্ঞাপনে অনেকে আকৃষ্ট হয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা অগ্রিম দিয়ে পণ্য অর্ডার করেন।

তবে মাসের পর মাস পার হলেও গ্রাহকরা পণ্য না পেয়ে বিপাকে পড়েন। একপর্যায়ে ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় এক গ্রাহক ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো. রাসেল এবং তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা করেন। ওই দিনই মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে এ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুদফা রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

গত জুলাইয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইভ্যালির শীর্ষ কর্মকর্তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত