রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া নির্বাচন নিয়ে দেশে চলমান অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। গতকাল বুধবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে ‘আমার কথা’ শীর্ষক লিখিত বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইসি মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনে বহুদলের অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের কারণ বিশ্লেষণ করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ অনিবার্য। ভোটারদের নির্বাচনবিমুখতাও আমার কাছে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত মনে হয়। এর সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা জড়িত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সার্বিকভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না। রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যতীত এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম নুরুল হুদা রাশিয়া সফরে থাকায় ১৭ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সিইসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব তালুকদার। এ সময় স্থানীয় সরকারের ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও ৯টি পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে।
এ নির্বাচন সম্পর্কে ইসি মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন অনুষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদে ৪৩ জন প্রার্থীর নির্বাচন না করেই চেয়ারম্যান পদে অভিষিক্ত হওয়া এই নির্বাচনকে মøান করে দিয়েছে। নির্বাচন যেহেতু অনেকের মধ্যে বাছাই সেহেতু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পদে আসীন হওয়াকে নির্বাচিত হওয়া বলা যায় কি?’
এ নির্বাচনে তিনজনের মৃত্যুর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বলে এসেছি জীবনের চেয়ে নির্বাচন বড় নয়। তবু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সহিংসতা রোধ করা গেল না। নির্বাচনে ঘটনা বা দুর্ঘটনা যাই হোক না কেন, নির্বাচন কমিশনের ওপরই দায় এসে পড়ে। তবে নির্বাচনের সব দুর্ঘটনা, অর্থাৎ বিশৃঙ্খলা, অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারা, প্রতিপক্ষকে হুমকি প্রদান ইত্যাদি অনাকাক্সিক্ষত বিষয়ের পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এই কমিশনার বলেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনানুগভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। যেসব জায়গায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, এর জন্য যারা দায়ী, প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের আটক করা হয়েছে। যারা অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে মহড়া দিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরও আটক করা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত করে আরও অনেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সহিংসতা রোধে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি এবং হবে না। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে একজন সংসদ সদস্যকে সতর্কবার্তা পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে।’
তিনি জানান, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটের টার্নআউট ছিল শতকরা ৬৯ দশমিক ৩৪ ভাগ।
