নিউজিল্যান্ডকে অনুসরণ করে নিরাপত্তা হুমকির অজুহাতে পাকিস্তান সফর বাতিল করেছে ইংল্যান্ড। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে দ্বিচারিতা বলে সমালোচনা করেছেন সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক মাইক আথারটন।
১৬ বছর পর অক্টোবরে ইংল্যান্ডেরও পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা ছিল। পুরুষ ও নারী দু’দলের খেলার সব কিছুই চূড়ান্ত হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সফর বাতিল করে ইসিবি, যা বোধগম্য নয় আথারটনের। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমসে লেখা কলামে ইসিবির কড়া সমালোচনা করে আথারটন লিখেছেন, ‘নিরাপত্তার কারণে সফর বাতিল করলে সেটা বোধগম্য হবে। কিন্তু বিবৃতিতে তারা করোনা পরিস্থিতির ক্লান্তির কথাও বলেছে। তাহলে বলতে হয় গত গ্রীষ্মে মহামারীর চরম সময়ে ইংল্যান্ডে সফর করা দলগুলো কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তাদের সে সফর ইংল্যান্ডকে আর্থিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছিল।’ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে আথারটন লেখেন, ‘পাকিস্তান যখন ইংল্যান্ড সফর করে তখন করোয়া ইংল্যান্ডে মৃত্যুর হার ছিল বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ, যা পাকিস্তানের চেয়ে দেড়শ গুণ বেশি। এত কিছুর পরও পাকিস্তান এসেছিল। হয়তো তারা সফর করার কারণে অনেক পেশাদার ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফ তাদের চাকরি ধরে রাখতে পেরেছিল।’
ইংল্যান্ডের পাকিস্তান সফর বাতিলকে বাজে উদাহরণ উল্লেখ করে আথারটন বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি গত বছর ইংল্যান্ডের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর ও ভারতের ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্ট বাতিলের চেয়েও বাজে। যদিও ওই দুটি ব্যাপার ছিল করোনাভাইরাসের কারণে, এর বিরুদ্ধে কথা বলা যায় না। সেগুলো বোধগম্য ছিল কিন্তু এটি একেবারেই নয়।’
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পাকিস্তান সফর বাতিল করায় ইসলামাবাদে ব্রিটিশ হাইকমিশনার ক্রিশ্চিয়ান টার্নারও ইসিবির দোষ দেখছেন, ‘ব্রিটিশ দূতাবাস সব সময়ই চেয়েছে ইংল্যান্ড দল পাকিস্তান সফরে আসুক। নিরাপত্তার অসুবিধার কথা আমরা একবারও বলিনি। এখনো আমরা মনে করি পাকিস্তান নিরাপদ।’ পিসিবির প্রশংসা করে টার্নার বলেন, ‘এই সিরিজ ভালোভাবে আয়োজনে পিসিবি যথেষ্ট চেষ্টা করেছে। আশা করব খুব দ্রুত পাকিস্তানের স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে। আর সেদিন ক্রিকেটের জয় হবে।’ নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড পরপর পাকিস্তান সফর বাতিল করায় অস্ট্রেলিয়ার আসা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে তাদের পাকিস্তান সফরে আসার কথা।
