প্রতিরোধ যোদ্ধার শিশুকে হত্যা করল তালেবান

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০২ এএম

আফগানিস্তানের তাকহার প্রদেশে এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তালেবান। শিশুটির বাবাকে প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবে সন্দেহ করার পর তাকে হত্যা করা হয়। তালেবানের এই নৃশংসতার খবর প্রকাশ করেছে পানশির অবজারভার। স্বাধীন এই মিডিয়াটি পানশির এবং আফগানিস্তান ইস্যুতে খবর প্রকাশ করছে।

পানশির অবজারভারের এক টুইট বার্তায় লেখা হয়, ‘তাকহার প্রদেশে এক শিশুকে খুন করেছে তালেবান যোদ্ধারা, তার বাবাকে প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবে সন্দেহ করা হয়।’ বিরুদ্ধাচরণকারীদের সঙ্গে তালেবানের আচরণের প্রতিফলন ঘটেছে শিশু হত্যার ঘটনায়।

আফগানিস্তান দখলের পর তালেবান একটি মধ্যপন্থি ইমেজ উপস্থাপন করতে চাইছে। আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জনের জন্য এই চেষ্টা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাবুল বিমানবন্দরের চিত্র প্রমাণ করেছে গোষ্ঠীটি একই রকম উগ্র এবং সহিংস মনোভাব বজায় রেখেছে।

তালেবানের আগের মেয়াদের সময়েও সহিংসতা তাদের অংশ ছিল। কাবুলে রক্তপাত ছাড়াই ক্ষমতা হস্তান্তর একটি ভালো ইমেজ তৈরির পরিকল্পনা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

পানশিরে তালেবানের সঙ্গে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের লড়াইয়ের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ওই অঞ্চলে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কী হয়েছে তাও প্রকাশ করছে না তালেবানরা। যদিও প্রতিরোধ যোদ্ধারা বলছে, তারা আমৃত্যু তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। গত এক সপ্তাহে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কোনো নেতার কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ১৯৬৪ সালের সংবিধানে ফিরবে তালেবান : আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়া তালেবান দেশটির ১৯৬৪ সালের সংবিধানে অস্থায়ীভাবে ফিরবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। ওই সংবিধানে আফগান নারীদের ভোটাধিকার দেওয়া হলেও অন্য কোনো অধিকার দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।

তালেবানের ভারপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান, তারা নতুন সংবিধান প্রণয়নের কাজ করছে। যতদিন পর্যন্ত নতুন সংবিধান তৈরি না হচ্ছে, ততদিন আফগানিস্তানে ১৯৬৪ সালে ‘গণতান্ত্রিক’ সংবিধানকে অনুসরণ করা হবে। মৌলভি আবদুল হাকিল বলেন, ‘ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তানে রাজা মোহাম্মদ জহির শাহর সংবিধানকে মানা হবে।’ তবে সংবিধানে শরিয়াহ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু থাকলে তা অনুসরণ করা হবে না বলেও তিনি জানান।

মোহাম্মদ জহির শাহ ১৯৬৩ সালে ক্ষমতায় বসার পরই ওই সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন। তার সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি অনেকটা গণতান্ত্রিক উপায়ে করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার আগ পর্যন্ত ওই সংবিধানই চলছিল। ওই সংবিধানে প্রথমবারের মতো আফগান নারীদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছিল।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকাকালীন নারীদের কোনো অধিকারই দেয়নি। কিন্তু গত আগস্টে যখন তালেবান পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে, তখন নারীদের ক্ষমতায়নের বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতিই তাদের পূরণ করতে দেখা যায়নি।

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারছেন না নারীরা : শিক্ষকতা কিংবা কাজের জন্য নারীরা কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়টির তালেবান নিযুক্ত চ্যান্সেলর মোহাম্মদ আশরাফ ঘাইরাত এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানান। গত সোমবার এক টুইট বার্তায় তিনি জানান, যতক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক পরিবেশ তৈরি করা না হচ্ছে ততক্ষণ এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

সোমবার কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর টুইট বার্তায় লেখেন, ‘যতক্ষণ সবার জন্য সত্যিকার ইসলামিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না ততক্ষণ নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে কিংবা কাজ করতে পারবেন না। ইসলামই প্রথম।’

এর আগে পশতু ভাষায় এক টুইট বার্তায় চ্যান্সেলর মোহাম্মদ আশরাফ ঘাইরাত জানান, নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে তবে এই পরিকল্পনা কখন বাস্তবায়ন হবে তা জানাননি তিনি। টুইটার বার্তায় তিনি লেখেন, নারী শিক্ষকের অভাবে আমরা পর্দার আড়াল থেকে পুরুষ শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। এভাবেই ইসলামিক পরিবেশ নিশ্চিত করে নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর তালেবান ইতিমধ্যেই নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দিয়েছে। মন্ত্রণালয়টিকে পাপ-পূণ্য নির্ধারণী মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এছাড়া মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিকও বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান। এ নিয়ে দেশটিতে নারীরা একাধিক শহরে বিক্ষোভও করছে। বিক্ষোভ দমনে তালেবান যোদ্ধাদের কঠোর হতেও দেখা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত