প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, ‘অন্যান্য শ্রেণির বার্ষিক বা সাময়িকের মতো পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরের শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না পিইসি, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ থাকছে। এবার ক্লাস সমাপনী অন্যান্য শ্রেণির পরীক্ষার মতোই হবে।’
দীপু মনি বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সামনে। আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে এবং যথাসময়ে পরীক্ষা হবে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে দেড় ঘণ্টা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে। আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে না। সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে নম্বর দেওয়া হবে। বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিভাগের নির্বাচিত তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা হবে। তবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র জিপিএ-৫-এর পেছনে না ছুটে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দেশ ও সমাজের জন্য নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
সম্প্রতি নতুন পাঠ্যক্রম নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার পাইলটিং শুরু হচ্ছে আগামী বছর। এতে এসএসসির আগে কোনো পাবলিক পরীক্ষা (পিইসি, জেএসসি ও জেডিসি) থাকবে না। মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভাগ পদ্ধতি তুলে দেওয়া ও ফলাফল মূল্যায়নে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের পাইলটিং ২০২২ সালে, পরের বছর এটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হবে। আর ২০২৫ সাল থেকে সর্বস্তরে বাস্তবায়ন করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সব সময় শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করেছেন। তার ৭৫তম জন্মদিন স্মরণীয় করে রাখতে আমরা সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করব।’
এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক ছাড়াও মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।
করোনা মহামারীর কারণে গত বছর ১৭ মার্চ থেকে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ফলে গত বছর পিইসি, জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করে বিশেষ মূল্যায়নে ফলাফল দেওয়া হয়। করোনার সংক্রমণ কমে আসায় গত ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয় সরকার। এরপর চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করে। রুটিন অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর শুরু হয়ে শেষ হবে ২১ নভেম্বর এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ৩০ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
